পবিত্র রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা গ্রামের এই মুদি দোকানি চলতি রমজান মাসে আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সম্পূর্ণ ক্রয়মূল্যে বিক্রি করছেন। তার দোকানে ছোলা (বুট), খেসারির ডাল, বেসন, মুড়ি, চিড়া, চিনি, খেজুর ও সয়াবিন তেল সবই বিক্রি হচ্ছে কোনো প্রকার লাভ ছাড়াই।
দোকানের সামনে টানানো রয়েছে সুস্পষ্ট মূল্যতালিকা। এতে ক্রেতারা সহজেই পণ্যের দাম জানতে পারছেন। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও ক্রেতারা তার দোকানে ভিড় করছেন। অনেকেই বলছেন, রমজানে যেখানে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে, সেখানে শাহ আলমের এই উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রম।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, কাউসার হোসাইন ও জহিরুল ইসলাম বলেন, রমজান এলেই বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ে। সেখানে আমাদের এলাকার ছোট ব্যবসায়ী শাহ আলম রোজাদারদের কথা ভেবে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আগে তিনি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে মাত্র এক টাকা লাভ রাখতেন। গত ৩ বছর ধরে পুরোপুরি লাভ ছাড়াই পণ্য বিক্রি করছেন। তার এই উদ্যোগে পুরো জেলায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে বিক্রেতা শাহআলম বলেন, বছরের অন্য ১১ মাস ব্যবসা করি। তখনও চেষ্টা করি কম লাভে পণ্য বিক্রি করতে, যাতে ক্রেতারা উপকৃত হন। রমজান মাসে মানুষ যেন ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারে এবং বাজারদরের চাপে না পড়ে এই চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগে দুই বছর ক্রয়মূল্যের সঙ্গে মাত্র এক টাকা লাভ রাখতাম। গত বছর ও এ বছর পুরো রমজান মাসে আটটি পণ্য সম্পূর্ণ ক্রয়মূল্যে বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে রমজানে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে গরিব ও মেহনতি মানুষ কষ্টে পড়ে। তাদের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ। কম দামে অন্য বিক্রি করার খবর পুরো দেশ জেনেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন উদ্যোগ কেউ নেয় না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, শাহ আলমের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। অন্য ব্যবসায়ীরাও যদি এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে নিম্ন আয়ের ভোক্তারা উপকৃত হবেন এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সময়ের আলো/জোই