এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি পড়ে রবে, শুধু তুমি আমি থাকব না কেউ এই পৃথিবীর ভবে... নিজের সৃষ্টিতে নশ্বর পৃথিবীর অমোঘ সত্য বলে গিয়েছিলেন মরমী কবি ও লোকসংগীতের মহাজন বিজয় সরকার।
শুক্রবর (২০ ফেব্রুয়ারি) এই কিংবদন্তি কবিয়ালের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৩ সালের এই দিনে নড়াইল সদরের নিভৃতপল্লী ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অথচ কবির মৃত্যুর চার দশক পার হলেও তার স্মৃতিধন্য সেই বসতভিটা আজ জীর্ণ দশা আর সরকারি উদাসীনতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিজয় সরকার তার দীর্ঘ সংগীত জীবনে ১৮০০-এর বেশি গান রচনা করেছেন। বাংলার লোকসংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় এই সম্মানের প্রতিফলন ঘটেনি তার জন্মস্থানে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ডুমদি গ্রামে শিল্পীর বসতভিটাটি এখন আগাছা আর অযত্ন-অবহেলায় বিলীন হওয়ার পথে। তার ব্যবহৃত কোনো সরঞ্জাম বা পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের জন্য আজও নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতি সংগ্রহশালা। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক অনুরাগী বিজয় সরকারের ভিটা দর্শনে আসলেও যাতায়াত পথ তাদের হতাশ করে। বাড়ি যাওয়ার একমাত্র পাকা রাস্তাটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিজয় সরকারের নাম ভাঙিয়ে অনেকে অনেক কিছু করলেও তার বাড়ির রাস্তার উন্নয়ন কেউ করে না। এছাড়া তার কালজয়ী গানগুলো সংরক্ষণেও সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে টেকসই কোনো উদ্যোগ নেই। বিজয় সরকারের স্মৃতি রক্ষার দাবি দীর্ঘদিনের।
এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিংকন বিশ্বাস জানান, জেলা প্রশাসন বিজয় সরকারের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন: আমরা বিজয় সরকারের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করছি। দ্রুতই বসতভিটা সংস্কার ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীদের দাবি, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দ্রুত যেন একটি পূর্ণাঙ্গ বিজয় সরকার কমপ্লেক্স ও সংগ্রহশালা নির্মাণ করা হয়। তা না হলে অবহেলায় হারিয়ে যাবে এই গুণী শিল্পীর শেষ চিহ্নটুকুও।
আজ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডুমদি গ্রামে নামমাত্র কিছু অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও, ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্নবিজয় সরকারের স্মৃতি কি তবে শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে?
সময়ের আলো/জোই