নিউইয়র্ক সিটির নতুন ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে হাজির হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
তিনি বসেছিলেন শোর ফ্রন্ট রো-তে। বড় প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের বদলে একটি ছোট, স্বাধীন লেবেল বেছে নেওয়াটা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, তিনি শহরের ফ্যাশন শিল্পকে সমর্থন করতে চান, তবে সেই সমর্থনটা মূলধারার ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রান্তিক ও উদীয়মান কণ্ঠের দিকে ঝুঁকে।
ফার্স্ট লেডির ভূমিকা এখন আর নিছক সামাজিক নয়, বরং অত্যন্ত দৃশ্যমান ও রাজনৈতিক। ইতিহাসবিদরা বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে এই উচ্চ-প্রোফাইল ভূমিকা এখন শহর পর্যায়েও নেমে এসেছে।
ফলে দুয়াজির প্রতিটি পোশাক, উপস্থিতি ও নীরবতাও বার্তা বহন করে। তিনি একজন সিরীয়-আমেরিকান শিল্পী, আবার প্রশাসনের প্রতিনিধিও। এই দ্বৈত পরিচয়ই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্বামী মেয়র জোহরান মামদানির শপথ অনুষ্ঠানে দুয়াজির পরা লম্বা নকশাদার বুট সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়।
জানা যায়, বুটটির মূল্য ৬৩০ ডলার। সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন যখন প্রশাসনের মূল প্রতিশ্রুতি ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’, তখন এমন বিলাসী চেহারা কি ঠিক? পরে তার স্টাইলিস্ট জানান, বুটটি ধার করা ছিল এবং কোটটি ভাড়া নেওয়া। কিন্তু বিতর্ক তখন ছড়িয়ে গেছে।
স্টাইলিস্ট গ্যাব্রিয়েলা কারেফা-জনসন ব্যাখ্যা দেন, পোশাকগুলো ছিল ধার বা ভাড়ায় নেওয়া। উদ্দেশ্য ছিল টেকসই ফ্যাশন ও ছোট ব্যবসাকে সমর্থন করা। কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে তা ধরা পড়ে ‘বিলাস’ হিসেবেই।
প্রশ্ন ওঠে ইমেজ তৈরির পেছনের প্রক্রিয়া কি ইমেজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ? নাকি দর্শক শুধু চূড়ান্ত ছবিটাই দেখেন?
আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনেকটাই সেলিব্রিটি সংস্কৃতির মতো। ছবি দ্রুত ছড়ায়, মন্তব্য আরও দ্রুত। দুয়াজি এখন এক ধরনের ‘ফিশবোল’-এর মধ্যে। প্রতিটি পোশাক হয়ে উঠছে বিশ্লেষণের বিষয়। এমনকি তার একটি ম্যাগাজিন সাক্ষাৎকারের সঙ্গে প্রকাশিত ফটোশুটেও উল্লেখ ছিল; সব পোশাক ‘অন লোন’। এটাও যেন আগাম সমালোচনার জবাব।
নির্বাচনি প্রচারে দম্পতি একজন পরিচিত স্টাইলিস্টের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পরে সমালোচনার মুখে সেই সম্পর্ক শেষ হয় এবং নতুন স্টাইলিস্ট যুক্ত হন। এতে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পোশাক এখন পেশাদারভাবে পরিকল্পিত। শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, প্রশাসনিক বার্তার সঙ্গেও এর সামঞ্জস্য রাখতে হয়।
মে মাসে আসছে নিউইয়র্কের সবচেয়ে আলোচিত ফ্যাশন ইভেন্ট মেট গালা। এখানে অংশ নেওয়া মানেই বিলাস, আড়ম্বর ও বিতর্ক। যদি দুয়াজি সেখানে যান, তার পোশাক আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র হবে। কারণ, এই অনুষ্ঠানের ঝলমলে দুনিয়া ও প্রশাসনের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে স্পষ্ট টানাপড়েন আছে।
রামা দুয়াজির সামনে প্রশ্ন একটাই; ব্যক্তিগত শিল্পীসত্তা, তরুণ প্রজন্মের স্টাইল ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বার্তাকে কি একই ফ্রেমে রাখা যায়? তিনি যেমন পরিবর্তনের প্রতীক, তেমনি স্থিতিশীলতারও মুখ। নিউইয়র্কের মতো শহরে ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়; এটি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ভাষা। সেই ভাষায় কথা বলতে গিয়ে দুয়াজিকে প্রতিদিনই শিখতে হচ্ছে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পাঠ।
সময়ের আলো/এআর