ইরানে ট্রাম্পের কূটনৈতিক জুয়া

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির জোরালো উপস্থিতি, ইরানকে ধারাবাহিক হুঁশিয়ারি এবং সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতি; সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এমন এক

2026-02-22T01:06:39+00:00
2026-02-22T01:37:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানে ট্রাম্পের কূটনৈতিক জুয়া
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৬ এএম  আপডেট: ২২.০২.২০২৬ ১:৩৭ এএম  (ভিজিট : ১৬৭)
প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির জোরালো উপস্থিতি, ইরানকে ধারাবাহিক হুঁশিয়ারি এবং সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতি; সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এমন এক কৌশল নিয়েছেন, যা একইসঙ্গে কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক বার্তা বহন করছে। 

কিন্তু এই অবস্থান কেবল পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ যখন তুঙ্গে, তখন ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান তার জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে; আবার সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এটি শক্ত অবস্থানের প্রমাণও হতে পারে। 

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শন : হোয়াইট হাউসের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই সমাবেশের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে তেহরানকে কড়া বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করছে যে ওয়াশিংটন এখনও অঞ্চলে প্রভাবশালী শক্তি। তবে প্রশাসনের ভেতরেই সবাই যে এই পথে একমত, তা নয়। একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, হামলার সিদ্ধান্তে এখনও ‘পূর্ণ সমর্থন’ নেই। অর্থাৎ কৌশলগত বার্তা যতটা স্পষ্ট, অভ্যন্তরীণ ঐক্য ততটা নয়। 

কারণের অস্পষ্টতা : ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে ‘ন্যায্য চুক্তি’ করতে হবে এবং তারা যেন পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। কিন্তু সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট কারণ কতটা স্পষ্ট; সেই প্রশ্ন উঠছে। কখনো ইরানে বিক্ষোভ দমনের বিষয়টি সামনে এসেছে, কখনো পরমাণু কর্মসূচি, আবার কখনো ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর ইঙ্গিত। সমালোচকদের মতে, এত বড় পদক্ষেপের আগে জনগণের সামনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে তুলেছিল; যদিও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তুলনামূলকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তির কাঠামো অনেকটাই অস্পষ্ট। 

ভোটের রাজনীতিতে ইরান : আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না। যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হলে ট্রাম্পের আইন পাস করা, বাজেট অনুমোদন কিংবা বিচারপতি নিয়োগ- সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এই নির্বাচন এক ধরনের গণভোটের মতো। 


রিপাবলিকান কৌশলবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বুমেরাং হতে পারে। তার সমর্থক ঘাঁটির একটি বড় অংশ বিদেশে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সন্দিহান। ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকারই তাকে জনপ্রিয় করেছিল। 

অর্থনীতি বনাম পররাষ্ট্রনীতি : জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আমেরিকানের কাছে মূল্যস্ফীতি, চাকরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ই প্রধান উদ্বেগ। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি মূল্যস্ফীতি কমাবেন এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবেন। কিন্তু বাস্তবে উচ্চমূল্য ও আবাসন ব্যয় এখনও অনেক ভোটারের জন্য চাপের বিষয়। ফলে প্রশাসনের ভেতর থেকেই পরামর্শ আসছে; ইরানের চেয়ে অর্থনীতিতে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। 

হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাছে অর্থনীতিকে প্রধান প্রচার ইস্যু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্প নিজে সেখানে উপস্থিত না থাকলেও বার্তাটি ছিল পরিষ্কার : ভোটারদের মনোযোগ অর্থনীতিতে। 

সমর্থক ঘাঁটির মনোভাব : ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে। এই নীতির মূল কথা বিদেশি সংঘাতে কম জড়িয়ে দেশের ভেতরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তার সমর্থকদের বড় অংশ সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু ইরান ভেনেজুয়েলার মতো নয়। এটি সামরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আঞ্চলিক প্রভাবও বিস্তৃত। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা জনমতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটাররা; যারা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, তারা এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। 

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ঝুঁকি : ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়বে। জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে, যা আবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আবার হামলা হলে তারা কঠোর প্রতিশোধ নেবে। ফলে সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্পের সামনে দ্বিমুখী চাপ- একদিকে শক্ত অবস্থান দেখানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে সংঘাতের পরিণতি সামলানোর বাস্তবতা। 

কূটনীতির সম্ভাবনা : হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন। তার মতে, ইরান সময় থাকতে চুক্তিতে এলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব। ট্রাম্পের বক্তব্য : ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র না রাখে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে। তবে তেহরান এ দাবিতে কতটা নতি স্বীকার করবে, তা স্পষ্ট নয়। যদি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তা হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। কিন্তু সেটি হবে এক বড় জুয়া।

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   ইরান  ট্রাম্প  কূটনৈতিক জুয়া 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: