ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শহিদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে বাধা ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলা করেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. আহাদ। এর কয়েক ঘণ্টা পর এদিন রাতেই পাল্টা মামলা হয়েছে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তামিম মিয়া সরাইল থানায় মামলাটি করেন। এতে ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
তামিম মিয়া সরাইল উপজেলার দক্ষিণ কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা।
মামলায় তামিম মিয়া অভিযোগ করেন, একুশে ফেব্রুয়ারি ভোরে জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তার বাড়ির সামনে এজাহারভুক্ত ১৭ জনসহ ১০০ থেকে ১৫০ জন গালাগাল করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে (তামিম মিয়া) মারধর করেন অভিযুক্তরা। এ ছাড়া তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেন তারা।
২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হন বলেও অভিযোগ করা হয় মামলায়।
এর আগে রোববার দুপুরে রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ মিয়ার করা মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়।
এ ছাড়া আরও চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করা হয় মামলায়।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আনোয়ার হোসেন জামিন লাভ করেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি নিজ সংসদীয় এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার স্থানীয় শহিদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় তার সমর্থকদের মারধর করারও অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই ফিরে যেতে হয় সংসদ সদস্যকে।
এফআর