ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় নতুন নির্মিত পিচঢালা সড়কের কাজ নিয়ে জনমনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে হাতের টানেই পিচ উঠে যাচ্ছে এমন ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন স্থানীয়রা।
তারা ছবিতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের চাক্ষুষ প্রমাণ দেখতে পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন, পোস্ট ঘিরে ভাসছে একের পর বিরূপ মন্তব্য। প্রকাশ্যে ছবি এলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে কাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বলে জানান ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাবাসী অভিযোগ তোলার পর উপজেলা প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে নমুনা পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে কাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। প্রকল্প অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটারের বেশি পাওয়া গেছে।
ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী আরও বলেন, কার্পেটিং কাঁচা থাকায় এটি তুলে ফেলা সম্ভব হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ফেসবুকে ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন কর্মকাণ্ড করছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। উন্নয়ন কাজে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে জরুরি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কর্তৃক সরকারি রাস্তা নির্মাণ এবং সংস্কার কাজে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রকল্পের প্রাক্কলন না জেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সরকারি কাজে বাধা দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে ইউএনওর অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া ওই জরুরি বার্তায়।
বার্তাটি নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনের ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানান। নাজমুল হক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, আমি মনে করি ইউএনওর (ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) উচিত এ রকম থ্রেট বক্তব্য না দিয়ে, কোথায় কি ধরনের অবহেলা আছে এ ব্যাপারে সঠিক তদারকি করা।
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতির ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া। হাসান সরকার নামে আরেক ব্যক্তি পোস্টের মন্তব্যে বলেন, সরাসরি হুমকি না দিয়ে বিষয়টি আরও শালীনভাবে উপস্থাপন করা যেত। তিনি দাবি করেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার দুর্নীতির শামিল এবং এর প্রতিবাদকে সরকারি কাজে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়সঙ্গত নয়। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উকিলবাড়ি থেকে কালির বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটারের মধ্যে এক কিলোমিটার অংশে পাকাকরণের কাজ চলছে। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান এন্টারপ্রাইজ।
নির্মাণকাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পিচ ঢালাইয়ের আগে ধুলাবালি ভালোভাবে না সরিয়েই নিম্নমানের পিচ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কোনোরকমে কাজ করা হয়েছে। সড়কের এই কাজ কোনোভাবেই টেকসই হবে না। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার রয়েছে।
এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা মন্তব্য করেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত করে সঠিক মান বজায় রেখে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/এআর