
কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ‘এন. আলম’ নামের এলপিজি পাম্পের ভয়াবহ আগুন চার ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় দগ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। পাশাপাশি রামু সেনানিবাসের দুটি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি নিয়ে বিমান বাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। মোট ৯টি ইউনিটের টানা চার ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে সদ্য উদ্বোধন করা পাম্পটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উদ্বোধনের পরদিনই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাম্পটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী এরফানুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্যাস পাম্পের খালি জায়গায় পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়। কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখায় ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। পাঁচজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দগ্ধ অন্তত ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরেও পুরো এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। তাই দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। গ্যাস লিকেজ বন্ধের কাজ করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণ করে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থল পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রেখেছে। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কাজ করেছে।
সময়ের আলো/আআ