চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসন এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত নির্মাণাধীন রিং রোডের পাশাপাশি একটি বিকল্প ফিডার রোড নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন এই বিশাল প্রকল্পটি সশরীরে পরিদর্শনকালে তিনি এ মতামত ব্যক্ত করেন।
এই সময় মন্ত্রী প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং নগরীর ওপর যানবাহনের চাপ কমাতে এই রিং রোড একটি মাইলফলক। তবে এর সুফল শতভাগ নিশ্চিত করতে কার্যকর সংযোগ বা ফিডার রোড অত্যন্ত জরুরি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, উপকূলঘেঁষা একটি ফিডার রোড নির্মিত হলে শহরের দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্তের মধ্যে একটি বিকল্প নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। তাছাড়া এটি নির্মিত হলে ভারী যানবাহনগুলো নগরীর অভ্যন্তরীণ মূল সড়ক এড়িয়ে চলতে পারবে, ফলে শহরের যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সময় আরও বলেন, চট্টগ্রাম যেহেতু দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, তাই দীর্ঘমেয়াদী সড়ক অবকাঠামো শিল্প ও বন্দরের বাণিজ্যে গতি আনবে। একইসঙ্গে উপকূলীয় এই সড়কে পর্যটন খাতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
এই সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রস্তাবিত ফিডার রোডের দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই করা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) নিশ্চিত করা এবং ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতাগুলো দ্রুত নিরসন করাসহ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন ।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। তাই এখানকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত পথে হাঁটতে হবে।
সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, রিং রোড প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সিডিএ-র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, মন্ত্রীর প্রস্তাবিত ফিডার রোডটি বাস্তবায়ন করা গেলে পুরো সড়ক নেটওয়ার্ক আরও বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কাজগুলো শেষ করে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/জোই