জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমতিকে পুঁজি করে রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০ টি ট্রাকে ডলুরা চলতি নদীর পশ্চিম পাড় থেকে অবাধে পাথর লুট করা হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় সরজমিনে ডলুরা চলতি নদীর পাড়ে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মতির প্রেক্ষিতে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ডলুরা নদীর পশ্চিম পাড়ে নিলাম ক্রয়কৃত ২,৯৯,৪৩২ ঘনফুট পাথরের মধ্যে অবশিষ্ট ১,৯৭৫৩২ ঘনফুট পাথর অপসারণের জন্য ৮টি শর্তে (২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ) পর্যন্ত ৭ দিনের মধ্যে নিজ খরচে পাথর অপসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
যেখানে ৭নং শর্তে উল্লেখ করা হয় রাত্রি কালীন সময়ে কোনো পাথর অপসারণ করা যাবে না অর্থাৎ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পাথর অপসারণ করতে হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র একবারেই ভিন্ন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এই কাগজকে পুঁজি করে রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০ টি ট্রাকে ডলুরার নদীর পশ্চিম পাড় থেকে অবাধে পাথর নিয়ে যাচ্ছে।
নিলামে পাথর ক্রেতারা অধিক পাথর লুট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারের ট্রাক যোগে পাথর বের করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে দেখার যেন কেউ নেই। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এ লুটের ব্যাপারে। নিলামে বিক্রি করা পাথর নিলামকারিরা কি পরিমাণে নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন বা খনিজ সম্পদ বিভাগের কেউ তা তদারকি করছেন না।
তবে নিলামকৃত পাথর সরবরাহের দায়িত্বে থাকা শাহজাহান বলেন, আমি সুনামগঞ্জে আছি। তবে রাতে পাথর বের হওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে এত গাড়ি ভর্তি পাথর লোড হয়ে কোথায় যাচ্ছে জাবাবে তিনি কিছু না বলেই ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলামকে একাধিক কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান জানান, সন্ধ্যার দিকে পাথর লুট হচ্ছে এমন একটি সংবাদ পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এই কাগজে উল্লেখ করা আছে রাতে কোনো পাথর অপসারণ করা যাবে না। যদি কেউ এমন করে তাহলে পাথর অপসারণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই