যেভাবে খামেনির অবস্থান ট্র্যাক করে ইসরায়েল-সিআইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে প্রবেশ করেছে।

2026-03-01T15:09:01+00:00
2026-03-01T15:09:01+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যেভাবে খামেনির অবস্থান ট্র্যাক করে ইসরায়েল-সিআইএ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম 
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে প্রবেশ করেছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ রোববার ভোরে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি তার কর্মস্থলে শাহাদত বরণ করেছেন। এছাড়া সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, জামাতা এবং নাতির শাহাদতের খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো আগে বারবার দাবি করেছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি নিরাপদ ও গোপন স্থানে থাকেন। তবে কর্মস্থলে তার মৃত্যু এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান করা হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তার অবস্থান ও দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে।

সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে, যেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্যের কারণে হামলার সময়সূচি বদলানো হয়েছিল।

বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে। এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে, কারণ এতে তারা দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য অর্জন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করতে পারবে। 

অল্প সময়ের মধ্যে খামেনিকে হত্যার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের পর তারা ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত থাকার পরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের যথেষ্ট সতর্ক রাখেননি। অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ফল।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চলাকালীন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় লুকিয়ে আছেন এবং চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব। 

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসি কীভাবে যোগাযোগ ও চলাফেরা করছিল, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামেনির গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। এছাড়া ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্দিষ্ট তথ্য জোগাড় করে।

ইরানের নেতৃত্ব অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পরবর্তী ধাপে, যেখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, সেসব স্থানে হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিছুক্ষণের জন্য সরে যেতে সক্ষম হন। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানের একাধিক স্থানে একইসঙ্গে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি হামলা ছিল শীর্ষ নেতাদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্সে। তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে এই হামলায় ইসরায়েল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে। হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

একই সময়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মাত্র একদিনে ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনী, রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এতে অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে হামলায় ‘ডজনখানেক নিরীহ শিশু’ নিহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’


/ইউএমএইচ






  বিষয়:   ইরান  ইসরায়েল  হামলা  খামেনি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: