ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি রোববার টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে ইরান এমন একটি শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনও ভুলবে না।’
এতে প্রাসঙ্গিকভাবে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের কয়েকজন সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কমান্ড গঠন করা হয়েছে।
বিশ্লেষক আবদুল কাদির ফায়েজ ব্যাখ্যা করে বলেন, লারিজানির ভাষণে তিনটি প্রধান বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রথম বার্তা : ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত বা আঞ্চলিক হামলা বাড়ানোর কোনো আগ্রহ রাখে না। যদিও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) প্রতিশোধমূলক বিবৃতি দিয়েছে, এটি উত্তেজনা বাড়ানোর চেয়ে রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় বার্তা : ইরানের অভ্যন্তরীণ জনগণকে সতর্কবার্তা, যাতে কেউ রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে না পারে। লারিজানি আশ্বাস দেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বিশেষ করে খামেনি ও অন্যান্য সামরিক নেতাদের হত্যাকাণ্ডের পর।
তৃতীয় বার্তা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি প্রতিশোধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে। আক্রমণের হার সীমিত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি পরিমিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
ফায়েজের মতে, এই বার্তাগুলো এই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান সরকার টিকে আছে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। সীমিত প্রতিক্রিয়াগুলো রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব বাড়াচ্ছে।
লারিজানি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে আগ্রহী, ‘আত্মঘাতী যুক্তি’ নয়, বরং কৌশলগত ও সংহতিপূর্ণ নীতি অনুসরণ করবে।
সময়ের আলো/এআর