গ্রাম্য সালিশের জেরে প্রায় তিন বছর আগে সংঘটিত হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়ার শিয়ালদাড়িয়া গ্রামের আলোচিত মহিবুর রহমান (২৫) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার প্রধান আসামি মো. ফজল মিয়া (২৭) কে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন-নবী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাত আটটার দিকে মহিবুর রহমান বাড়ি থেকে বের হন। রাতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন (২৭ জুন) দুপুরে শিয়ালদাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবায় ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে সেটি মহিবুরের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আতর আলী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘদিন হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
পরে ৩ জানুয়ারি ২০২৪ সালে মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানায়, আসামি ফজল মিয়া ব্যক্তিগত বিরোধ ও অপমানবোধ থেকে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। গ্রাম্য একটি সালিশকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার রাতে ভিকটিমকে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেন আসামি। পরে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পিবিআই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পিযুষ কান্তি দেবনাথ বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও আমরা মূল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
সময়ের আলো/আরবিএন