ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামনে এসেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির নাতি হাসান খামেনি নাম।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকে বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা ধর্মগুরুদের পরিষদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষমতার এই রদবদলের মুহূর্তে হাসান খামেনি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারেন। যদিও তিনি নিজে কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবুও ধর্মীয় ও প্রতীকী অবস্থানের কারণে তার গুরুত্ব বেড়েছে।
৫৩ বছর বয়সী হাসান খামেনিকে ইরানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি হিসেবে দেখা হয়। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি এবং হাসান রুহানির মতো সংস্কারপন্থী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এ দুই নেতা ক্ষমতায় থাকাকালে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার পথ অনুসরণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন
দক্ষিণ তেহরানে দাদার সমাধি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে জনপরিসরে তার উপস্থিতি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। সরাসরি প্রশাসনিক দায়িত্ব না থাকলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, তিনি ক্ষমতার ভেতরকার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে কিছু মহল তাকে কট্টরপন্থি শিবিরের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে- বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনির প্রভাবের বিপরীতে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখলেও, হাসান খামেনি সময় সময়ে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ২০২২ সালে তরুণী মাহসা আমিনি নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
এএডি/