যমুনার চরে পড়ে আছে কোটি টাকার ব্রিজ

সোহানুর রহমান, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)

সারাদেশ

যমুনার বুকে ভেসে থাকা চরগুলোতে মানুষের জীবন চলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে। আওনা চর, ঘুইঞ্চাচর, নিশ্চিন্তিপুর, লক্ষ্মীপুর, বারোগান্ধি ও চন্দপুর

2026-03-04T03:45:12+00:00
2026-03-04T03:45:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
যমুনার চরে পড়ে আছে কোটি টাকার ব্রিজ
সোহানুর রহমান, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৫ এএম 
আওনা চরে ব্রিজ নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কাজে আসছে না। ছবি : সময়ের আলো
যমুনার বুকে ভেসে থাকা চরগুলোতে মানুষের জীবন চলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে। আওনা চর, ঘুইঞ্চাচর, নিশ্চিন্তিপুর, লক্ষ্মীপুর, বারোগান্ধি ও চন্দপুর এই ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াত দীর্ঘদিন ধরেই ছিল দুর্ভোগের নামান্তর। বর্ষা এলেই চারদিক পানিতে তলিয়ে নৌকাই হয়ে উঠত একমাত্র ভরসা। 

আর শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির আইল ধরে ঘোড়ার গাড়িতে চলাচল করতেন স্থানীয়রা। এই চিরচেনা ভোগান্তির অবসান ঘটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় আওনা ইউনিয়নের ঘুইঞ্চা আওনা চরে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। 

প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে একটি ব্রিজের নির্মাণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, অন্যটির কাজ এখনও চলমান। তবে ব্রিজ থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রশ্ন উঠছে, এটি উন্নয়নের সঠিক পরিকল্পনা, নাকি আগাম অপচয়? তবে শিক্ষার্থী থেকে কৃষক সবার চোখে আশার আলো এই ব্রিজ ঘিরে। চরবাসীর ভাষায়, ব্রিজটি শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়, এটি তাদের ভবিষ্যতের সঙ্গেও যুক্ত।

প্রশাসনের যুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, চরাঞ্চলে আগে রাস্তা করলে বন্যার সময় পানির স্রোতে তা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আগে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাস্তা নির্মাণের সময় প্রয়োজনে আরও ব্রিজ করা হবে।


স্থানীয়রা বলছেন, যমুনা চরের এই ব্রিজ যেমন এখনও নির্মাণাধীন ঠিক তেমনি চরবাসীর স্বপ্নও নির্মাণাধীন। সংযোগ সড়কের কাজ বাস্তবায়ন হলে এই ব্রিজ হতে পারে উন্নয়নের মাইলফলক। আর তা না হলে কোটি টাকার প্রকল্পটি অপচয়ের বিতর্কে পড়ে যাবে। সময়ই বলে দেবে, এই ব্রিজ অপচয়ের স্মারক, নাকি চরাঞ্চলের ভাগ্য বদলের সেতু।

কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, বর্ষাকালে নৌকায় যেতে হয় আর শুষ্ক সময়ে হেঁটে। কখনোই সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না। অনেক সময় ক্লাস মিস হয়। ব্রিজ আর রাস্তা হলে আমাদের পড়াশোনার কষ্ট অনেক কমবে। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া খুব কঠিন। বর্ষায় বন্যার সময়ে নৌকা পাওয়া গেলেও শুকনো সময়ে বিপদে পড়তে হয়। হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফসল বাজারে নিতে সময় আর খরচ দুটিই বেশি লাগে। ব্রিজ আর রাস্তা হলে কম খরচে ফসল পরিবহন করা যাবে। ন্যায্য দামও পাওয়া যাবে।

রফিকুল নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, যোগাযোগ ভালো হলে এখানে নতুন দোকান হবে, ব্যবসা বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পর্যটনের সম্ভাবনাও দেখছেন কেউ কেউ। চরাঞ্চলের দৃশ্যধারণ করতে আসা শাহরিয়ার সাদ্দাম বলেন, এখানে আরও দুয়েকটি ব্রিজ হলে বন্যার সময় এলাকাটি পর্যটন এলাকায় রূপ নিতে পারে। রৌমারী বিল বা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মতো দৃশ্য উপভোগ করা যাবে এখানেও।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   যমুনা  চর  ব্রিজ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: