ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় খুলনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খুলে নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুল দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখা দিয়েছে। ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।
গত (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মহানগরীর সদর থানাধীন যশোর লোয়ার রোডের শঙ্খ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলটির নেতাকর্মীরা সেখানে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান ও ফুল দিয়ে পালিয়ে যায়।
এই প্রথমবারের মতো দলটির এমন কাণ্ড দেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এছাড়া খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিএম আরিফের নেতৃত্বে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে তাতে ফুলের মালা দেন। এরপর ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওঠার গেটে তালা লাগিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানার জন্য টিএম আরিফের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই, সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাবো।
এই ঘটনার বিষয় মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে নগরবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তা না হলে শান্ত খুলনা আবারও অশান্ত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সময়ের আলো/জোই