সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

মো. নূর হামজা পিয়াস

মতামত

আমেরিকা ও ইসরাইলের এক নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা কেবল একটি

2026-03-05T06:20:05+00:00
2026-03-05T06:20:05+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
মতামত
সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
মো. নূর হামজা পিয়াস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:২০ এএম   (ভিজিট : ৬৯)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আমেরিকা ও ইসরাইলের এক নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রধানের মৃত্যু নয়, বরং এটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান প্রতিরোধের এক শক্তিশালী স্তম্ভের পতন। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রায় একাই লড়ে আসছিলেন খামেনি। তার এই প্রস্থান ইরানকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিলেও বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর এই হামলার মূল উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক অভিসন্ধি। ইরানের বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলে নেওয়ার জন্য আমেরিকা বহু বছর ধরেই ছক কষছিল। খামেনি সরকার কোনোভাবেই দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিয়ে মার্কিনদের সঙ্গে আঁতাত করেনি। এই আপসহীন অবস্থানই ছিল ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার প্রধান কারণ। তেল সমৃদ্ধ এই ভূখণ্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে অবশেষে সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

আমেরিকার এই আগ্রাসনের গভীর লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাববলয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া। এই অঞ্চলের তেল ও খনিজ সম্পদ একচেটিয়াভাবে নিজেদের দখলে নেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। খামেনি সরকার যেহেতু বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত মৈত্রীতে আবদ্ধ ছিল, তাই মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এই সরকারকে হঠানো তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়ার মাধ্যমে আমেরিকা এশিয়ায় চীন ও রাশিয়ার ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ এবং ‘কৌশলগত সংযোগ’ বিচ্ছিন্ন করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন ‘ডিপ-স্টেট’ এক ভয়াবহ খেলা শুরু করেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের যে ‘গায়ে পড়া যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে, তার সুতো নাড়ছে ওয়াশিংটন। তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানকে চাপে রাখতে পাকিস্তানকে একটি গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধকে উসকে দিয়ে তারা এই অঞ্চলে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। এটি কোনো সাধারণ সীমান্ত সংঘর্ষ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক চাল, যার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের শক্তিগুলোকে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত রাখা।

ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, আমেরিকা তার স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তানকে বারবার ‘ইউজ’ করেছে এবং কাজ শেষে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছে। নব্বই দশকের আফগান যুদ্ধ থেকে শুরু করে হালের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ’ প্রতিবারই পাকিস্তান মার্কিনদের হয়ে লড়েছে কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে কেবল অর্থনৈতিক ধস ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। বর্তমান পাকিস্তান-আফগান যুদ্ধ শেষে যখন পাকিস্তান তার কার্যকারিতা হারাবে, তখন আমেরিকা আবারও তাদের একা ফেলে চলে যাবে। এই তিক্ত সত্যটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান আজ আবারও এক মরণফাঁদে পা দিয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পাকিস্তান মিশন শেষ হওয়ার পর এই সাম্রাজ্যবাদী হাওয়া বাংলাদেশের দিকেও বইতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশকে নিরাপদ মনে হলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগে থেকেই এ অঞ্চলের মানচিত্র নিয়ে কাজ করছে। পাকিস্তানের অস্থিরতা যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন এই ভূখণ্ড। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পাকাপোক্ত করতে এবং ভারত ও চীনের ওপর নজরদারি বাড়াতে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করা মার্কিনদের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকে মনে করেন বাংলাদেশে তেল নেই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। এই অঞ্চলে তেল না থাকলেও রয়েছে অপার খনিজ সম্পদ, যা আমেরিকা ও তার মিত্ররা বহু আগেই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আবিষ্কার করে রেখেছে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা গ্যাস ও বিরল খনিজ উপাদানের প্রতি তাদের লোলুপ দৃষ্টি অনেক পুরোনো। নিজেদের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই সম্পদগুলো কুক্ষিগত করতে চায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর এই সম্পদ দখলের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেবল সম্পদের জন্য নয়, বরং শত্রুশক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের ‘কৌশলগত স্থান’ মার্কিনদের কাছে অত্যন্ত লোভনীয়। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। এখান থেকে চীনকে ঘিরে ফেলা বা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ। আমেরিকা এই অঞ্চলে এমন একটি ঘাঁটি গড়তে চায়, যেখান থেকে তারা পুরো এশিয়ায় তাদের কমান্ড বজায় রাখতে পারবে। এই কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাই বাংলাদেশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমেরিকা আজ অঞ্চলে অঞ্চলে, দেশে দেশে তার সাম্রাজ্যবাদ ভয়াবহ আকারে বিস্তারের সিগন্যাল দিয়েছে। জাতিসংঘ এখন কেবল একটি সাক্ষী গোপাল ছাড়া আর কিছুই নয়। সার্বভৌম দেশে হামলা এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, এখন কেবল ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিই বিশ্বে কার্যকর। মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্ধত আচরণ বিশ্বকে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ছোট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, এই অভিযান বিশ্ব শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। তবে এই ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার নামে যে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ঝরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা নীরব। খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তারা ইরানে একটি পুতুল সরকার বসানোর চেষ্টা করছে, যারা ওয়াশিংটনের প্রতিটি আদেশ তামিল করবে। এই তথাকথিত গণতন্ত্রের আড়ালে আসলে লুকিয়ে আছে সম্পদের লুণ্ঠন ও সাম্রাজ্যবাদী দম্ভ। বিশ্ববাসী এখন মার্কিন এই দ্বিমুখী নীতির করুণ পরিণতি প্রত্যক্ষ করছে।

খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠোর। ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়েছে যে, আমেরিকা আগুন নিয়ে খেলছে এবং এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুতিন সরকার ইতিমধ্যে তাদের পারমাণবিক সাবমেরিনগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে মোতায়েন করেছে। রাশিয়ার জন্য ইরান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার জোন। এখন ইরান যদি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে রাশিয়ার দক্ষিণ সীমান্ত সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। মস্কো এই পরাজয় সহজে মেনে নেবে না, যা একটি বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চীন এই পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গেলেও অর্থনৈতিকভাবে আমেরিকাকে আঘাত করার পরিকল্পনা করছে। বেইজিং ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ চুক্তিগুলো বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বাড়লে তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। চীন এখন রাশিয়ার সঙ্গে মিলে একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন হবে। এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাজতান্ত্রিক দেশগুলো এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। একদিকে তারা মার্কিন মিত্র, অন্যদিকে খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও চিন্তিত। তারা বুঝতে পারছে যে, আজ ইরান আক্রান্ত হলে কাল তাদের পালাও আসতে পারে। এই অঞ্চলের রাজারা এখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন তারা কি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পা চাটা গোলাম হয়ে থাকবে, নাকি মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে এক হবে? এই দোদুল্যমানতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিতিশীলতার জন্ম দিচ্ছে।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা কোনো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দমন করা সম্ভব নয়। তেহরানের অলিগলিতে এখন সেøাগান উঠছে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’। এই হত্যাকাণ্ড আসলে নতুন হাজার হাজার খামেনি তৈরি করেছে। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, আদর্শকে হত্যা করা যায় না। আমেরিকার এই সামরিক জয় সাময়িক হতে পারে, কিন্তু তারা ইরানি জনগণের অন্তরে যে ঘৃণার বীজ বুনে দিয়েছে, তা থেকে ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ প্রতিরোধের জন্ম নেবে যা মার্কিন স্বার্থকেই ছাই করে দেবে।

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন সময় এসেছে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার। পাকিস্তান-আফগান যুদ্ধের উত্তাপ যদি হিমালয় পেরিয়ে এদিকে আসে, তবে তা মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। বাইরের শক্তিগুলো সবসময় দেশের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে কাজে লাগিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। খনিজ সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন আর কেবল একটি বদ্বীপ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক দাবার গুটিতে পরিণত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ নিস্তব্ধ। মানবাধিকারের প্রবক্তারা আজ নীরব। একটি স্বাধীন দেশের নেতাকে হত্যার পর যখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়, তখন বিশ্ব বিবেকের কি কিছুই করার নেই? যদি এভাবেই পরাশক্তিগুলো যা খুশি তাই করতে পারে, তবে মানব সভ্যতা কি আবারও প্রস্তর যুগের সেই বর্বরতায় ফিরে যাচ্ছে না? এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দুর্বল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার কোনো অস্তিত্ব নেই। ন্যায়বিচার এখন কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ।

আয়াতুল্লাহ খামেনি হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার এক অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তেলের লোভ, খনিজ সম্পদের তৃষ্ণা এবং কৌশলগত আধিপত্যের এই উন্মাদনা বিশ্বকে তৃতীয় মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   সাম্রাজ্যবাদ  বিশ্ব  নৈরাজ্য  ঠেলে  দিচ্ছে 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: