সৌদি আরবে সম্প্রতি একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে পাকিস্তানকে জড়িয়ে দিতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (২ মার্চ) সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনায় একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ সৌদি আরবে কোনো হামলা চালায়নি, বরং এটি ইসরায়েল পরিচালিত একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এসএমডিএ) অনুযায়ী পাকিস্তান কি সত্যিই যুদ্ধে অংশ নেবে কি না। ওই ঐতিহাসিক চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদের ইয়ামামা প্যালেসে এই চুক্তিতে সই করেছিলেন, যা দুই দেশের নিরাপত্তা জোরদার ও যৌথ প্রতিরোধশক্তি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বহন করে। এই চুক্তিতে যৌথ ও সমন্বিত পাল্টা হামলার কথা বলা হলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মন্তব্য থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দার জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে সৌদি আরবে হামলা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য।
তবে বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তান এই মুহূর্তে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে সৌদির কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে পারে, কারণ এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কেবল সতর্কবার্তা দিয়েছে, যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এই চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো পাকিস্তান সৌদি আরবকে তার পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতার আওতায় এনেছে কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে রিয়াদ বিকল্প অংশীদার খুঁজতে শুরু করে।
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবকে পারমাণবিক সুরক্ষা দেওয়ার কথা না বললেও আন্তর্জাতিক সংগঠন আইক্যানের প্রতিবেদনে চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘বর্ধিত প্রতিরোধ নীতি’র একটি নতুন নজির হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তির (টিপিএনডব্লিউ) মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন