আইআরজিসির নতুন কমান্ডার কে এই আহমাদ ওয়াহিদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বর্তমানে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী

2026-03-06T17:29:58+00:00
2026-03-06T17:29:58+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আইআরজিসির নতুন কমান্ডার কে এই আহমাদ ওয়াহিদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম   (ভিজিট : ১৪৮)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি। সংগৃহীত ছবি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বর্তমানে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে একটি। এই সময়ে তার নেতৃত্ব নেওয়া হয়েছে এমন একটি মুহূর্তে যখন ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখোমুখি। ইতোমধ্যেই এই অভিযানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশের শহরগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত। এ সময় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন।

আইআরজিসি-র শীর্ষ নেতৃত্বের ঝুঁকি অতীব স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, এলিট কুদস ফোর্সের দীর্ঘদিনের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। সাম্প্রতিক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার শুরুতে মারা যান। পাকপুরকে তার পূর্বসূরি হোসেন সালামির হত্যার পর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল; সালামিকে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের সময় হত্যা করেছিল। এই ঘনঘন পরিবর্তনই দেখায়, আইআরজিসি-র শীর্ষ পদ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এবার ওয়াহিদির উপর এমন একটি দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, যা তার পূর্বসূরী সোলেইমানিও পাননি: পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তির নেতৃত্ব দেওয়া।

আহমাদ ওয়াহিদি কে?

ওয়াহিদি আইআরজিসি-র নতুন প্রধান হওয়াটা অপ্রত্যাশিত নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে ডেপুটি চিফ হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। এর আগে তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ হিসেবে কাজ করেছেন। আইআরজিসি-র সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয় ১৯৭০-এর শেষের দিকে। আশির দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন এবং ধাপে ধাপে পদোন্নতি পান। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত তিনি কুদস ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালে এই দায়িত্ব সোলেইমানির কাছে হস্তান্তর করেন।

ওয়াহিদি নিজেকে ইসলামি বিপ্লব রক্ষায় নিবেদিত ঘোষণা করেছেন। ডিসেম্বরে ডেপুটি চিফ হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, “ইসলামি বিপ্লব রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম মহৎ কাজ এবং ইসলামি ব্যবস্থার বিরোধিতা সবচেয়ে বড় পাপ।” ২০২৫ সালে ‘প্রেস টিভি’কে তিনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবকে ‘আলোর বিচ্ছুরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা অঞ্চলের ও বিশ্বের ইতিহাসে পরিবর্তন এনেছিল।

তিনি কৌশলগতভাবে বাস্তববাদী হিসেবেও পরিচিত। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগে ছিলেন, যা ‘ইরান-কন্ট্রা অ্যাফেয়ার’ নামে পরিচিত। এ থেকে তার ইসরায়েল ও মার্কিন নীতি নিয়ে গভীর ধারণা তৈরি হয়েছে।

ওয়াহিদি কেবল সামরিক নেতা নন; তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অধীনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে অবসরে যান। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞরা তাকে একজন ‘দক্ষ ও অভিজ্ঞ আমলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার অভিজ্ঞতা তাকে যুদ্ধকালীন আইআরজিসি-র আদর্শ প্রধান কমান্ডার হিসেবে তৈরি করেছে।


বিতর্ক ও অভিযোগ

ওয়াহিদির দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনে কিছু বিতর্কও আছে। ১৯৯৪ সালের বুয়েনস আইরেসের এএমআইএ ইহুদি কেন্দ্রে বোমা হামলার কারণে আর্জেন্টিনার অনুরোধে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নোটিশকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেছে।

এছাড়াও, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ দমন করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আমওয়াজ’-এর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী শাবানি এক্সে (টুইটার) উল্লেখ করেছেন, ওয়াহিদি তার পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তিনি বলেন, “ওয়াহিদি অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং ইসরায়েলের কারণে তৈরি শূন্যস্থানগুলো পূরণে একটুও সময় নষ্ট করছেন না।”

আইআরজিসি-র ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ওয়াহিদিকে ইরানের রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব এনে দিয়েছে। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর এই অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ-আলী জাফারি ইচ্ছে করেই আইআরজিসি-কে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন, যাতে শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হলেও সংস্থাটি টিকে থাকে। আলী আলফোনেহ মনে করেন, ওয়াহিদি এই বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোকে সমন্বয় করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির নাদের হাশেমি বলেন, ইরানের নেতারা এখন আইআরজিসি প্রধান হিসেবে এমন একজন খুঁজছেন, যিনি শীর্ষ নেতৃত্ব হত্যার পরও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন এবং সৈনিকদের লড়াই চালাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। হাশেমি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা আইআরজিসি-র ওপর নির্ভরশীল। এই আক্রমণ থেকে টিকে থাকা এবং পাল্টা লড়াই করার ক্ষমতার ওপরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   আহমাদ ওয়াহিদি  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: