মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবরে মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাজারে তেল সংকটের আশঙ্কায় স্থানীয় ফিলিং স্টেশন ও জ্বালানির দোকানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুদের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ও কৃষকদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন।
মুজিবনগর শহরে জ্বালানি নিতে আসা একজন কৃষক বলেন, আমি চাষি মানুষ, মাঠে সেচ কাজের জন্য ডিজেল লাগে। ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাই তেল সংকট হতে পারে শুনে তেল নিতে আসলাম। সামনে সেচ মৌসুম, তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কিছু ডিজেল নিয়ে বাড়িতে রাখব।
গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের জাহিরুল ইসলাম নামে একজন মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার পর আরেকটি বোতলে তেল নিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে যুদ্ধ হচ্ছে, তেল আমদানি বন্ধ হতে পারে যে কোনো সময়, তাই কিছু তেল নিয়ে রাখছি।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক চাহিদার বিষয়ে স্থানীয় এক ফিলিং স্টেশনের মালিক রেজানুর বিশ্বাস বলেন, সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে। আমরা সবাইকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। অযথা মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মজুদ করার কারণেই কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে এবং এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিবে। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা নির্ধারিত দামের বেশি রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ