রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার অনন্য এক মাস। মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে রোজার উদ্দেশ্য হিসেবে তাকওয়া অর্জনের কথা ঘোষণা করেছেন। সুতরাং রোজা কেবল খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও চিন্তাকে পাপ ও অকল্যাণ থেকে সংযত রাখার এক সামগ্রিক অনুশীলন। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই সংযম রক্ষা সহজ নয়।
স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। রমজানের পবিত্র সময়ও কখনো অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং, বিতর্ক, গিবত কিংবা অনুচিত কনটেন্ট দেখায় ব্যয় হয়ে যায়। ফলে রোজার আত্মিক প্রশান্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা ও অসৎ কাজ ত্যাগ করে না, তার ক্ষুধা-তৃষ্ণা আল্লাহর কাছে কাম্য নয়।’ এ হাদিস আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, রোজার মূল শক্তি বাহ্যিক সংযমের চেয়ে অন্তরের শুদ্ধতায়।
তবে প্রযুক্তি নিজে দোষী নয়, তার ব্যবহারই আসল বিষয়। ডিজিটাল মাধ্যম যেমন সময় নষ্টের কারণ হতে পারে, তেমনি হতে পারে ইবাদতের সহায়কও। অনলাইনে কুরআন তেলাওয়াত শোনা, দোয়া শেখা, ইসলামি আলোচনা দেখা কিংবা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন- এসবই হতে পারে নেক আমলের অংশ। প্রয়োজন কেবল সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। রমজানে আমাদের উচিত নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলা, ইবাদতের সময় ফোন দূরে রাখা এবং পরিবারকে নিয়ে কুরআন পাঠ বা দ্বীনি আলোচনায় বসা।
সন্তানদের শেখাতে হবে ডিজিটাল শৃঙ্খলাও রোজার সংযমের অন্তর্ভুক্ত। রমজান আমাদের শেখায়, প্রকৃত শক্তি আত্মনিয়ন্ত্রণে। তাই ক্ষুধা দমনের পাশাপাশি যদি আমরা চোখ ও আঙুলের সংযম শিখতে পারি, তবে ডিজিটাল যুগেও রমজানের পবিত্রতা অটুট থাকবে। পর্দার ক্ষণস্থায়ী আলো নয়, তাকওয়ার স্থায়ী আলোয় আলোকিত হোক আমাদের জীবন।
লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুত দাওয়াহ শরইয়্যাহ
সময়ের আলো/কেএইচও