ঝিনাইদহে তেল পাম্পে কর্মচারীদের পিটুনিতে যুবক নীরব হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় আটক ৩ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফীন এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রবিজুল ইসলাম ও সুরাট ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের সাফিয়ার রহমানের ছেলে দাউদ হোসেন।
জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে বোতলে করে তেল নিতে আসেন যুবক নীরব হোসেন। এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। কিছুক্ষণ পরে আবারও সেখানে যান নীরব। এ সময় অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করেন তিনি।
এতে পাম্পের কর্মচারীরা লাঠি দিয়ে নীরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নীরবকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পাম্পের ৩ কর্মচারীকে আটক করে র্যাব।
এসব ঘটনায় শনিবার রাতেই নিহতের পিতা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পরে আটক ৩ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফীন জানান, যুবক নিহত হওয়ার থানায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আটককৃত ৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত নীরব ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুডের ব্যবসা করত। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ফলে ওই ঘটনার পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আরাপপুরে একটি ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর ও রাতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ৩ টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অপরদিকে বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ রোববার সকালে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের সব প্রকার যান চলাচল। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। পরে বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাসে ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে দেয় শ্রমিকরা।
এফআর