ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে চান্দিনা খাতুন (২২) নামে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা মাজেদুল মন্ডল বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম।
থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, যৌতুকের দাবিতে গত ৪ মার্চ রাতে চান্দিনা খাতুনের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মধ্যযুগীয় ভাবে মাথার চুল কেটে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে। পরের দিন প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, চান্দিনা খাতুন সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাজেদুল মণ্ডলের মেয়ে। ৫ বছর আগে সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামের মিন্টু চৌধুরীর ছেলে মো. আমিরুল চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় চান্দিনার। আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় মালয়েশিয়ায় যান আমিরুল চৌধুরী। এক মাস আগে তিনি প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন। চান্দিনা খাতুনের ৩ ও ২ বছর বয়সি দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার চান্দিনা খাতুন জানান, আমি একটি বাটন মোবাইল ব্যবহার করি। বুধবার রাতে হঠাৎ করে আমার স্বামী আমাকে দোষারোপ করে আমি কোন ছেলেকে এসএমএস দিয়েছি। আমি অস্বীকার করলে আমাকে কিল-ঘুষি মারা শুরু করে। এক পর্যায়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে আমাকে ধরে জোর করে কাচি দিয়ে মাথার চুল কেটে নির্যাতন করে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরে আটকিয়ে রাখে। সারারাত আমার ছোট ছেলেটা আমার কাছে আসার জন্য কাঁদলেও আমার কাছে আসতে দেয়নি। পরের দিন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আমি আমার বাবার মোবাইলে কল দিয়ে জানালে তারা এসে আমাকে উদ্ধার করে।
চান্দিনার বাবা মাজেদুল মন্ডল বলেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার আগে আমরা ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এবার ফিরে এসে আবার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করছে। আমরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। গত বুধবার রাতে আমার মেয়েকে মাথার চুল কেটে মধ্যযুগীয় ভাবে নির্যাতন করে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
অভিযুক্ত আমিরুল চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
আমিরুল ইসলামের বাবা মিন্টু চৌধুরী মোবাইলে বলেন, আমি ইজিবাইক চালায়। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আমার বউমার মাথার চুল কেটে দিয়েছে। পরে আমাদের বাড়ির পাশেই একটি দোকানে বউমাকে রাখা হয়। সেখানে খাট-বিছানাসহ শোবার ব্যবস্থা আছে।
কী কারণে এমন নির্যাতন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বউমা অন্য মানুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। ছেলে সেটা জানতে পেরে এমন করেছে।
তবে ভুক্তভোগীর চাচা সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার ভাতিজি কোনো অপরাধ করে থাকে, তবে তারা আমাদের জানাতে পারতো। আমরা ভূপতিপুর গ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে শুনেছি। কেউ বলতে পারছে না যে কখনো আমার ভাতিজির বিষয়ে কোনো কথা উঠেছে। জামাই বিদেশ থেকে ফিরে আবার অন্য দেশে যাবার জন্য টাকা দাবি করছে। সেই টাকা আমার ভাই দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাতিজিকে এমন নির্যাতন করেছে। এখন মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।
ওসি (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এফআর