জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে এই রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর নিয়োজিত ইজারাদার জগলুল হোসেন নয়ন।
তিনি বলেন, মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে সর্বশেষ সংগ্রহ করা অকটেনের রিজার্ভ রোববার শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ব্যাংক পে-অর্ডার দেওয়া হলেও মেঘনা অয়েল কোম্পানি তেল সংকটের কারণ দেখিয়ে সেটি ফেরত দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এ রুটে যাত্রী পারাপারের জন্য প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়।
জানা গেছে, প্রতিদিন এই রুটে স্পিডবোটে প্রায় এক হাজার যাত্রী চলাচল করেন। হঠাৎ করে সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
সাধারণ যাত্রীরা জানান, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে মাত্র চার-পাঁচ দিন পর থেকে ঘাটে যাত্রী চাপ শুরু হবে। এর মধ্যে যদি জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
আবদুল হামিদ নামের এক যাত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর ভোরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য কুমিরা ঘাটে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্পিডবোট না ছাড়ায় বাধ্য হয়ে আবার চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে।
ঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্বে থাকা শামছুল আলম দেলু বলেন, যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে কাঠের বোট সার্ভিস দিয়ে যাত্রী পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম দপ্তরের সহকারী পরিচালক নয়ন শীল বলেন, জ্বালানি সংকটে স্পিডবোট বন্ধের বিষয়টি তারা জেনেছেন। এটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট হলেও, ঈদে যাত্রী পারাপারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেঘনা অয়েল কোম্পানির কাছে বিশেষভাবে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হবে।
এফআর