ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ সাত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এর আগে, গতকাল রোববার রাত ২টার দিকে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান ও অন্তর মাহমুদ, 'দ্য রেড জুলাই'-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ‘তাজ ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নিতে গিয়ে কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব। এ ঘটনায় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একই মালিকের ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশন’-এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন রাত সোয়া তিনটার দিকে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা ‘রয়েল পরিবহনের’-এর দুটি ও ‘জে-লাইন’ পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতার কৃতদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ। হত্যার ঘটনার চেয়ে ভাঙচুরের বিষয়টিকে বড় করে দেখা হলে তা হবে দুঃখজনক। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফআর