৬ মাস ধরে বেতনহীন ৪ কর্মচারী, নেপথ্যে মাদ্রাসার সুপার ও কথিত বিএনপি নেতা

হিলি প্রতিনিধি

সারাদেশ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত

2026-03-11T23:32:27+00:00
2026-03-11T23:32:27+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
৬ মাস ধরে বেতনহীন ৪ কর্মচারী, নেপথ্যে মাদ্রাসার সুপার ও কথিত বিএনপি নেতা
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম 
বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী আ. আলিম। ছবি : সময়ের আলো
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

একই সঙ্গে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন কর্মচারীর বেতন সাবমিট করতে না দেওয়া এবং গায়ের জোরে মাদ্রাসা পরিচালনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জনৈক বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী আ. আলিমের বিরুদ্ধে।

Advertisement
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে এ সংক্রান্ত এক শুনানিতে উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসে।

মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্যদের অভিযোগ, বৈধ প্রক্রিয়ায় ও মেধার ভিত্তিতে চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সুপারের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর আ. আলিম ও সুপার মোজাহার আলী মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মাদ্রাসায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দিচ্ছেন না এবং ‘মব’ সৃষ্টি করে তাদের বের করে দিচ্ছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জিয়াউল হক বলেন, সুপার আমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আ. আলিমের উপস্থিতিতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে শুনি সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে কমিটি ভাঙার জন্য বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী শাকিল ও নাইটগার্ড জানান, আমরা বৈধভাবে চাকরি পাওয়ার পরও আ. আলিম ও তার গ্যাং আমাদের লাথি মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ৬ মাস ধরে কাজ করেও বেতন সাবমিট করতে না পারায় আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

মাদ্রাসার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার শাহিনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৬ জানুয়ারি থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সাবেক সুপার মোজাহার আলী ক্ষমতার বলে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে মাদ্রাসার টিউশন ফি একাই আত্মসাৎ করেছেন। এখন নতুন কর্মচারীদের কাছে টাকা দাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।


অভিযুক্ত সুপার মোজাহার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘মাথা ঠিক নেই’ বলে কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। 

অন্যদিকে, আ. আলিম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে সবার স্বার্থে এসেছি। আমাকে অফিস থেকে ডাকা হয়নি, আমি নিজ ইচ্ছায় এসেছি।

তবে সদস্যদের চাপ দিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শমসের আলী মন্ডল বলেন, মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এফআর
  বিষয়:   দিনাজপুর  হাকিমপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: