বিএনপির নির্বাচনি প্রচার ও ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। আর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এ বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি পালনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল যাতে সমাজের সব মানুষের ঘরে পৌঁছায়, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারগুলো যাতে আগে সহায়তা পায়- সে লক্ষ্যেই নারীপ্রধান পরিবারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। মানুষের বিশ্বাস- এ কার্ড ব্যবস্থায় দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই প্রকল্পের উদ্বোধন ও বিতরণ কার্যক্রম দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও অপ্রতুল পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর বাস্তবায়ন ও সুফল পেতে ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।’
প্রথম দিকেই জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে, প্রতিশ্রুতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইরান যুদ্ধের কারণে কিছুটা সময় লাগলেও, মূল লক্ষ্য থেকে তিনি সরে যাননি। এই প্রতিশ্রুতি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে, যেখানে প্রত্যাশা- দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে যাবে। ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্পে ৩৭ হাজার ৫৬৪ জনকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি সূচক মাত্র। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সব স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই এ কার্ড পাবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র, অপ্রতুল ও উপকারভোগীদের জীবন সহজ করে তুলবে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া, সঙ্গে নগদ অর্থ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া, এগুলোর মাধ্যমে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের প্রতি অটল থাকাটাই প্রতিফলিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সদিচ্ছা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অবশ্য এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন একদিকে যেমন সময়ের দাবি, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর সফলতা ও চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী ও অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্থানে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের দিক থেকে দেখলে আরও সময়, কার্যকরী পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কারণ প্রত্যাশার চেয়ে বাস্তবতা অনেক সময় আলাদা। সরকারের এগিয়ে চলার পথে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা একান্ত প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি বিন্দুমাত্র সরে যাননি। সাময়িক জটিলতা বা বৈশ্বিক অস্থিরতা এই প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত করবে না। বরং এই উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। উন্নত জীবনমান ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এই কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা পৌঁছাবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো শক্তিশালী হবে।
অভিন্নভাবে বলতে গেলে, এই প্রকল্প দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অঙ্গীকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস একান্ত প্রয়োজন। ধৈর্য, সমন্বয় ও দৃঢ়তা থাকলে এই প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব। এটি শুধু একটি সামাজিক প্রকল্প নয়, বরং দেশের সার্বভৌম উন্নয়নের প্রতীক। আমাদের প্রত্যাশা- এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের মানুষ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এক সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে।
সময়ের আলো/আআ