সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে বোরো ধানখেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। পেট্রোল পাম্প ও দোকান থেকে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি না করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দুই লিটার করে ডিজেল দিচ্ছেন দাবি করলেও অধিকাংশ কৃষকরা ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক ডিজেলের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন, তাতেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তার ৫ বিঘা জমির একটি বোরো ধানের ব্লক আছে। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় জমিতে সেচের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে পারছি না। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ দোকানে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও যে পরিমাণ ডিজেল দিচ্ছে তাতে সেচ পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামের কৃষক মো. ইউনুচ আলী বলেন, তার ৩১ বিঘা জমির ইরি ব্লক করেছেন তিনি। জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন তার প্রায় ১০ লিটার ডিজেল লাগে। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় ফিলিং স্টেশন থেকে ১০ লিটার ডিজেল কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আর দুই লিটারের বেশি দিচ্ছে না। যা দিয়ে আমার পুরো ইরির ব্লকে পানি সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধানখেতের মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরা শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পুরো ব্লক মার খেয়ে যেতে পারে।
তিনি বোরা ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার স্বার্থে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে সাত হাজার ৪০টি এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেল চালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে এ সময় বৃষ্টিপাত হলে ডিজেলের পরিমাণ কিছুটা কম লাগে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিষয়টি তদারকি করছেন।
সময়ের আলো/আআ