দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ : সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান দ্রুত নতুন এক জটিল পর্যায়ে ঢুকে পড়েছে। শুরুতে আকাশ হামলায় বড় ধরনের সামরিক

2026-03-15T06:35:57+00:00
2026-03-15T06:35:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ : সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ এএম 
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে জুমার নামাজের পর কুদস (জেরুজালেম) দিবসের বিক্ষোভ। আয়োজিত বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বহু মানুষ। ছবি : সিএনএন
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান দ্রুত নতুন এক জটিল পর্যায়ে ঢুকে পড়েছে। শুরুতে আকাশ হামলায় বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করা হলেও যুদ্ধের সামগ্রিক লক্ষ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যু এবং কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের নিহত হওয়ার পরও তেহরানের শাসনব্যবস্থা টিকে আছে। 

একই সময় ইরান পাল্টা কৌশল হিসেবে সংঘাতকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের খরচ বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি এক ধরনের ‘এস্কেলেশন ফাঁদ’ তৈরি করছে। যেখানে হামলা বাড়াতে বাড়াতে একসময় যুদ্ধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই সংঘাত কি সীমিত সামরিক অভিযানের মধ্যেই থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা : ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধের গতিপথ দ্রুত বদলে যেতে পারে। শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। সেই অভিযানের প্রথম ধাক্কায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা। তবে এত বড় আঘাতের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং হামলার পর আকাশ আক্রমণের মাত্রা আরও বেড়েছে। নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে ঢুকছে যেখানে সামরিক সাফল্য আর রাজনৈতিক সাফল্য এক নয়।

এস্কেলেশন ফাঁদ কী : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ রবার্ট পেপ মনে করেন, যুদ্ধের একটি সাধারণ ধাপ থাকে। প্রথম ধাপে আক্রমণকারী বাহিনী দ্রুত সামরিক সাফল্য পায়। অনেক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়। কিন্তু সেই সাফল্য যদি রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করতে না পারে, তখন যুদ্ধ দ্বিতীয় ধাপে যায়। তখন আক্রমণকারী পক্ষ মনে করে আরও শক্তি প্রয়োগ করলে হয়তো ফল মিলবে। ফলে হামলার মাত্রা বাড়তে থাকে। যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। কিন্তু তাতেও যদি কাক্সিক্ষত ফল না আসে, তখন তৃতীয় ধাপ শুরু হয়। সেটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

রবার্ট পেপের মতে, ইরান যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে এবং তৃতীয় ধাপের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

উপসাগরে সংঘাত ছড়ানোর কৌশল : এই পরিস্থিতিতে ইরান অন্য এক ধরনের কৌশল নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘অনুভূমিক বিস্তার’, অর্থাৎ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক শক্তিতে প্রতিযোগিতা না করে সংঘাতকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া। উপসাগরীয় দেশগুলো, সমুদ্রপথ এবং জ্বালানি সরবরাহকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক খরচ বাড়ানো। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে চাপে ফেলা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে— কেন তারা এমন একটি যুদ্ধে মূল্য দেবে, যার মূল কারণ অন্যত্র।

নতুন উত্তেজনা লেবানন সীমান্তে : সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসরাইলও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হিজবুল্লাহ যদি রকেট হামলা বন্ধ না করে, তা হলে লেবাননের কিছু এলাকা দখল করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এর ফলে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তার আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক রবার্ট ম্যালি মনে করেন, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর। তার মতে, সংঘাত থামানোর কোনো পথ ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে যুদ্ধ আরও বড় আকার নিতে পারে। যেমন স্থল অভিযান শুরু হওয়া, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় হামলা, অথবা দেশটির ভেতরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করা। তবে এসব পদক্ষেপ আবার ইরানের পক্ষ থেকেও আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কা : বিশ্লেষকরা আরেকটি সম্ভাবনার কথাও বলছেন। সেটি হলো ধীরে ধীরে সংঘাতের বিস্তার। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধ একদিনে বড় আকার নেবে না, বরং ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক এই পরিস্থিতির তুলনা করেছেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে। সেখানে প্রথমে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। 

তাদের মতে, ইরানেও যদি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুরু হয়, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এক পক্ষকে সহায়তা করতে বিশেষ বাহিনী পাঠাতে পারে। আর সেখান থেকেই সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

এফআর


  বিষয়:   দ্য গার্ডিয়ান  বিশ্লেষণ  সংঘাত  কোথায়  থামবে 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: