মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তিতে এখনই পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত নন।
শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি তা করতে চাই না কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।’ তিনি আরও বলেন, যে কোনো চুক্তি হতে হলে তা ‘অত্যন্ত মজবুত’ হতে হবে। তবে চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি এবং বলেন, আমি এ বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনকিছু বলতে চাই না।
ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্পর্কে নিজের সন্দেহও প্রকাশ করেছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে খামেনি জনসমক্ষে দেখা না দেয়ায় ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এখনও পর্যন্ত কেউ তাকে দেখাতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, আমি শুনেছি, তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে দেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরকে তিনি ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতাকে সমর্থন করার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট নাম জানাননি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বেঁচে আছেন এবং দেশটির ভবিষ্যতের জন্য দারুণ নেতা হতে পারবেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বের জন্য তেল নিশ্চিত করতে চাই। আমি তেল চাই। তবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো সংকট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পুনরায় বহাল করা হবে।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন থেকে সহায়তা নেওয়া বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আমাদের সবচেয়ে কম প্রয়োজন তাদের—তিনি হলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।
উল্লেখ্য, জেলেনস্কি রাশিয়ার ড্রোন প্রতিহত করার সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছিলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ইউক্রেন একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েল, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে ‘অ্যাম্বুলেন্স সাইরেনের অবিরাম শব্দ’ এবং ‘নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে’—ইরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই স্বীকারোক্তি ইরানের ‘ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের গভীরতা’ প্রকাশ করে। সংস্থার দাবি, তাদের হামলায় ইসরায়েলের শিল্প ও সামরিক খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত হারির বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতে অবস্থিত আলী আল সালেম ও আরিফজান ঘাঁটিতে সফল অভিযান চালানো হয়েছে। সংস্থার মতে, এসব ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
/ইউএমএইচ