সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে গত ১৫ মার্চ রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ো বাতাসে মাঠে থাকা মাঝ বয়সী ভুট্টা গাছের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার চরাঞ্চলের ৬ ইউনিয়নে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে লোকসানের শঙ্কা জেগেছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঝুঁটি বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি দফতর।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি যমুনা নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। বন্যায় এ অঞ্চলের কৃষি জমিতে প্রতিবছর পলি মাটির স্থর জমে থাকে। যা যে কোনো কৃষি শস্যের বাম্পার ফলনের জন্য খুবই উপযোগী।
অন্যান্য কৃষি ফসলের তুলনায় কম বিনিয়োগে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষ গত কয়েক বছরে এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
উপজেলা কৃষি দফতরের সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ হাজার ৯ শত ১৫ হেক্টরে চাষাবাদ হয়েছে। এবং প্রতিটি ভুট্টা গাছে মৌচা ধরেছে। আর মাস খানেকের মধ্যে ফসল তোলার উপযোগী হবে। গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে হঠাৎ ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, এতে ক্ষেতের প্রায় অর্ধেক ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে যায়।
চরাঞ্চলের তেকানি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস. এম. গাজী মাজহারুল আনোয়ার জানান, ইউনিয়ন জুড়ে বিভিন্ন গ্ৰামের ভুট্টা ক্ষেতের প্রায় অর্ধেক গাছ পড়ে গেছে। কৃষকের মাথায় হাত।
নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক ময়নাল (৬৫) জানান, তার আবাদকৃত ১৫ বিঘা ভুট্টার অর্ধেক বিনষ্ট হয়েছে। মনসুরনগর ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি মাসুদ, আহাদ, চরগিড়িশের কৃষক জাবেদ, আহম্মেদ এবং গোলাম রসুলদের বক্তব্য অনুযায়ী এ বছর ভুট্টা চাষে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। যা কয়েক বছরেও পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ হিসেবে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটিতে পড়ে যাওয়া ভুট্টা গাছ সাবধানতার সাথে তুলে কয়েকটি করে ঝুঁটি বেঁধে দিতে হবে, এতে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ফসল রক্ষা করা সম্ভব।
সময়ের আলো/এআর