ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় পাম্পে তেল কিনতে গিয়ে মারধর ও হামলার শিকার হয়েছে দুই ভাই-বোন। পুলিশের এক কনস্টেবল ও ইউনিয়ন যুবদল নেতার ছেলে তাদের বেধড়ক মারপিট করে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ তেল পাম্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্প আইসির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী যুবক রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি, তার বোন ও ভাগনে দুইটি মোটরসাইকেলে লাঙ্গলবাধ পাম্পে তেল কিনতে যান। তেল নিয়ে মোটরসাইকেল স্টার্ট করার সময় লাঙ্গলবাধ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক (বিপি নং-কং ১২৪২) সিভিল পোশাকে কোনো পরিচয় না দিয়ে রবিউলকে মারধর করে।
এ সময় রবিউলের বোন জেসমিন খাতুন ও ভাগনেকে মারধর করা হয়। ওই কনস্টেবলের সঙ্গে ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মণ্ডলের ছেলে রিজওয়ানও তাদের মারধর করে।
পরবর্তীতে রবিউল ও তার বোনকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। করা হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।
একপর্যায়ে কিছু ঘটেনি এমন মুচলেকায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এস আই আনিছুজ্জামান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরে ভুক্তভোগী রবিউল, তার বোন ও ভাগনে।
রবিউল অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি থেকে বেশ দূরে তেল পাম্পটি। পথে কোথায় তেল ফুরিয়ে গেলে জরুরি সময়ের জন্য বোতলে ২০০ গ্রাম তেল রেখেছিলাম। সেই তেল দেখে কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক কোনো কথা ছাড়াই আমাকে মারধর শুরু করে। আমি বাধা দিলে দুইজনে বেধড়ক মারপিট করে। এমনকি আমার বোনকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকে। শুরুর দিকে তার পরিচয় জানতে পারিনি আমরা। পরে জানার পর আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক বলেন, গতকাল একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। রাতেই তো সেটা ঠিক হয়ে গেছে।
ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মণ্ডলের ছেলে রিজওয়ান বলেন, আমি তো মারধর করিনি। আমি উল্টো উনাদের ঠেকিয়েছি।
এ ব্যাপারে লাঙ্গলবাধ ক্যাম্পের আইসি এসআই আনিসুজ্জামান বলেন, গতকাল একটু ভুল-বুঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে। আমরাও তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। একটা ঘটনা ঘটে গেলে কিছু তো করার নেই।
এফআর