এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দান। প্রায় ২২ একর আয়তনের এই বিশাল মাঠে এবারও লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর এই ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
এদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং দিনাজপুর পৌরসভার উদ্যোগে রাত-দিন কাজ করছে ৯৬ জন শ্রমিক।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মুসল্লিদের জন্য ৩০০ অজুখানা, ৪০টি টয়লেট ও খাবার পানি সরবরাহের জন্য ৫টি পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
এসময় পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঈদের জামাতে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় মাঠ জুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। আগতরা শুধু জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন। ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহৎ এই ঈদগাহে মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা, যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থাসহ সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে অসংখ্য মাইক বসানো হচ্ছে। লাখ লাখ মুসল্লির ওজুর জন্য পর্যাপ্ত ওযুখানা এবং পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বড় কোনো মিম্বর ছিল না।
২০১৭ সালে ৫২টি গম্বুজ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। গম্বুজগুলোর দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফিট। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সিরামিক্স দিয়ে পুরো মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় ঈদগাহ মাঠ দ্বিতীয়টি নেই। ২০১৭ সাল থেকেই প্রতিবারে এখানে বৃহৎ পরিসরে ঈদের নামাজ আদায় করছেন দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এফআর