নাঈম ফিরোজের কবিতা

নাঈম ফিরোজ

সাহিত্য

স্মৃতির কেশরঘেউঘন অন্ধকার, ঘেউঘন অন্ধকারেঅদৃশ্যমান দূরেট্রেন গাইছে এক স্কাইলার্ক, রাত—অধিক আওয়াজে কেউ, সেপিওসেক্সুয়াল—ট্রেন গাইছে আরো জোরে ঘেউঘন অন্ধকার আরও— নাবছে

2026-03-19T16:48:41+00:00
2026-03-20T21:27:44+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
নাঈম ফিরোজের কবিতা
নাঈম ফিরোজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম  আপডেট: ২০.০৩.২০২৬ ৯:২৭ পিএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
স্মৃতির কেশর


ঘেউঘন অন্ধকার, ঘেউঘন অন্ধকারে

অদৃশ্যমান দূরে 
ট্রেন গাইছে এক স্কাইলার্ক, রাত— 

অধিক আওয়াজে কেউ, সেপিওসেক্সুয়াল—
ট্রেন গাইছে আরো জোরে ঘেউঘন অন্ধকার আরও— নাবছে ক্রমে ক্রমলয়

সনৎ শুনছে এসব সনৎ ওঝা—

কেউ যেন আরো গিলাফে জড়াচ্ছে স্যাক্রেড— উনত্রিশ পারাটিরে

উনত্রিশ পারা— আহারে, অই অব্দিই মুখস্থ ছিলো হাফেজের— 

এখন লক্ষাধিক রাতের পর— মৃত্যুর অমন অমল-তামসিক ঘুমে
আর কি তার মনে পড়ে— 
রুহানি গান? রৌদ্রধূল স্নান?

স্মৃতির কেশর হাতরে দেখো— সনৎ,
কেন সিংহদুয়ার খোলা— 
ডাকঘর আজ ফাঁকা— ট্রমালীন

বিশ্বস্ত নিশ্বাস আজো আমি— 
তোমার ভালোবাসি

ভালোবাসি— 
আকস্মিক রাতের বাতাস

অদৃশ্যমান দূরে ট্রেন গাইছে ঘেউলঘু রাত— 

ঘেউলঘু অন্ধকার নাবছে— ক্রমশ, ক্রমশই 

ওহ্ মাই গড— অমালীন— 
এই জ্যোছনাতে ভাসছে কার জানাযা অই!






তোমার গলার হিলে

মেহমান পাখি ও—
তুমুল আমার প্রেম যেন জেনসুরে টেনে নিলে
বিয়োগবিধুর সমূহ পত্রপুটে 
কোন গান চড়ে তোমার গলার হিলে

আমারই লিলিথ সোনার ঘ্রাণে সোঁদা
লৌহযুগেতে প্রেম? মম দিল যে পাথরেকু্ঁদা

কবিতাদষ্ট আমি,
আমার ঘ্রাণের নিচে
মিলান খসড়া এঁকে দিয়ে গেলো কোন সে ব্রহ্মপিশাচ 

ক্ষম আমার এ কিস্তোয়ার
ক্ষম আমার এ খানাপুরী
ক্ষম আমার এ বুঝারত
ক্ষম আমার এ তসদিক

হে রোমাঞ্চ
হে কবন্ধ
হে হলাহল

শোনো দুর্নিরীক্ষ্য আঁধিয়ার 

আমার প্রাণের প্রেমিকা
তার ঘ্রাণ যে শিশু অনিবার
আমার জন্মে তার
ফোটে— অধিকার অধিকার

ফোটে তার অধিকার অধিকার।






ফুল্ল কেশর ফোটে


এখন কেশরব্লসম—

কোথাও ফুল্ল কেশর ফোটে 

ফোটে রক্তকেশর সিংহ-দহলিজে

সুবাহ্ বাংলায়— 
বিদেহ ধানের ঘ্রাণ— খুচরা রেনেসাঁর আশায়— রক্তকরোজ্জ্বল করে আমাদের মাথা 

আহ্ কাহকাশান। ওহ্ গুলফিশান।

কোনো মুখ নেই ব্রাকেটে, যেখানে সুখ আছে, আছে আলোর ঝালর

এক একটা আহবান থেকে পানপাতা 
পাটের মসনদে কী দাউদাউ করে ঝরে!

এই সুপারস্নিগ্ধ শহরে, আহাশহরে—
পাঠাও সিংহ সত্যমঙ্গলের নিচে

ওখানটায় ওয়াক্‌ফ এস্টেটে— 
এক অনাথা রাষ্ট্রশিশু গায় গান— বহ্নিমান 

মিনি এ চাঁদের কণা 
মিনিয়েচারের কোনা 

থেকে থেকে কেশর খুব ফুল্ল ফুটে গেলে
কবেকার চাপাতিসভ্যতার দিকে ক্রমেই নেমে যাওয়া যায়

কোনো মুখের দিকে তাকালেই যখন
        মানুষ ভেসে ওঠেনা আর

তখন— 

পাঠাও সিংহ তোমাদের
এই সুপারস্নিগ্ধ শিল্পিত শহরের ক্রোড়ে

যেখানে হরদম

আহ্লাদিত ধূলার আবির ওড়ে

মিনি এ চাঁদেরকণা ঢেকে
মিনিয়েচারের কোনা থেকে

এই স্বপ্নমুখর রাষ্ট্রশিশুর মুখভার হবে জেনে অজস্রাতিজস্র ফুল্ল কেশর ফোটে 

বিদেহ ধানের ঘ্রাণ খুচরা রেনেসাঁর আশায়

রক্তকরোজ্জ্বল করে আমাদের মাথা 

চাপাতিসভ্যতা নেমে নেমে আসে!






লীন আরো লীন

Aerials in the sky
When you lose small mind, you free your life
Aerials, so up high
When you free your eyes, eternal prize

Aerials | SOAD


কী সহজ একটা জলাশয় ডাকছে আমাদের—

অথচ জানো, পশ্চিমের দামী সেতু একটা— 

মাঝখানে এসে— এক আরো খানিকটা দামী, তবে কৃতঘ্ন লেসবিয়ান হাসি হেসে তাতে বাধা দেয়

এসব কেমন বলো, লাগেনা খুব মিষ্টি ফোয়ারার মতোন?

দেখো না, কী সহজ একটা জলাশয় ডাকছে আমাদের এই অমূলক বসন্তদিনে!

এমন লিকলিকে জলাশয়— যেখানে

জিপসিদের বৃক্ক বিক্রির দিনে 
একটা হলুদ অন্ধপাখি ফেরেশতার মতো ডুব দিয়ে 
সেই জলাশয় থেকে শেখে সোনালি মায়ার রেণু সংগ্রহ— 

কী বেভুল ও শান্ত পরাক্রমে!

ইতিহাসের আর্তি আর লুব্ধদৃষ্টির মতোন শিশুদের 

পাখনাস্বচ্ছ পেলব মুখ এনামেল হারায়ে ফেলে 

লীন আরো লীন খুব নক্ষত্র আপাত আকাশ ভেবে আমাদের মুকুটে এসে গেঁথে যায়

ফুল হতে হতে হয়ে যাই সুরভিত

প্রবারণার চাঁদে কম্পিত সূর্যটুইটের মতো আমাদের মেঘপত্রগুলোও মুছে মুছে যাচ্ছিলো সেদিন






অবিরল গুসবাম্প

ভাঁট এক ফুলের সর্বনাম। 

ভাঁট কখনো বলে নাই নাকি— সে তোমার 

আদর-অন্ধ শাদা পরিযায়ী বিহগ? 

সে তোমার সভ্যতায় মরে যাওয়া আলো

পুস্পের মিছিলে আগুনের করুণ কিশলয়!

ভাঁটফুলগুলা প্রেম

অবুঝ

অবিরল গুসবাম্প।




  বিষয়:   নাঈম ফিরোজ  কবিতা 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: