ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। জেলা পুলিশের তৎপরতায় স্বাভাবিক রয়েছে যানচলাচল। এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে মহাসড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন।
সাতকানিয়া এলাকায় পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার বলেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এই স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে জেলা পুলিশের প্রায় ১৫০০ সদস্য মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে।
মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, তদারকির জন্য আমরা লং রেঞ্জের ড্রোন ব্যবহার করছি। এর মাধ্যমে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচলের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে যেসব বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো এবার মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান এ পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার অংশ চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত। এই দীর্ঘ সড়কপথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদযাত্রায় অপরাধ চক্রের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ডিবি টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। যাতে কোনো অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মোহাম্মদ নাজির আহমেদ বলেন, ডিএসবির সাদা পোশাকে সদস্যরা পরিবহন খাত নজরদারিতে রেখেছে। পরিবহনের মালিক-চালকরা যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কাজ করছে। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে কেরানীহাট এলাকায় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এফআর