ঈদ মানে আনন্দ। নতুন পোশাক আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সেই আনন্দ যেন অধরাই থেকে যায় রেলওয়ে স্টেশনের বসবাস করা ছিন্নমূল মানুষের জীবনে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তাদের বাড়ছে অনিশ্চয়তা- হবে কি নতুন কাপড়, মিলবে কি ভালো খাবার?
নীলফামারীর ডোমার রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও অপেক্ষাকক্ষ সহ আশেপাশে খোলা জায়গায় তাদের বসবাস। প্রতিদিন ভিক্ষা আর কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস বিক্রিকে করেই চলে তাদের জীবিকা। ঈদকে ঘিরে যখন চারদিকে কেনাকাটার ব্যস্ততা, তখন এসব মানুষের কাছে নতুন পোশাক কেনা যেন বিলাসিতা।
প্ল্যাটফর্ম বসবাসত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে হল প্রতিবেদকের।
জরিয়ার হোসেন নামে একজন বলেন, আমরা স্টেশনেই থাকি। ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়েই কোনো মতে খাই। ঈদ আসলে সবাই নতুন কাপড় পরে, কিন্তু আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই। কেউ যদি একটা কাপড় দেয়, তবেই ঈদ করা হয়।
জাহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, দিনে যা পাই তা দিয়ে পেটই ঠিকমতো চলে না। ঈদের জন্য আলাদা করে কিছু কেনার টাকা থাকে না। মানুষ যদি একটু সাহায্য করে, তাহলে হয়তো ঈদের দিনটা একটু ভালো কাটবে।
মকবুল ইসলাম নামে একজন বদ্ধ বলেন, আমাদের তো ঘরবাড়ি নাই, স্টেশনেই থাকি। ঈদ আসলে ভালো খাবার খেতে মন চায়, কিন্তু সব সময় তো হয় না। কেউ যদি সাহায্য করে, তাহলে একটু আনন্দ করতে পারি।
বিত্তবানরা যদি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সমাজকর্মী সিহাব প্রধান বলেন, ঈদ মানে আনন্দ আর ভাগাভাগি করার উৎসব। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ছিন্নমূল মানুষ আছেন, যাদের কাছে ঈদের আনন্দ পৌঁছায় না। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে একটু করে তাদের পাশে দাঁড়াই। তাহলে তারাও ঈদের আনন্দটা অনুভব করতে পারবে।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি সব সহায়তা এই সব অসহায়-ছিন্নমূল মানুষ কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই যাদের যুদ্ধ। তাদের কাছে ঈদ যেনো অচেনা বিলাসি স্বপ্নের নাম। তাই এ আনন্দ ছুঁয়ে যেতে পারে না, তাদের কাউকেই। বরং সামনে অনিশ্চিত এবং অন্ধকার ভবিষ্যতের চিন্তায় ক্লান্ত তারা।
সময়ের আলো/জোই/