প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফ চৌধুরী। দুই জামাতেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, ‘আমরা কোরআন সুন্নাহের আলোকে সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি। কোরআন সুন্নাহর ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে আসছি।’
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর ও সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং পবিত্র রমজানের রোজা রেখে আসছেন। প্রথমে এসব ঈদের জামাতের লোকজন কম হলেও এখন সারা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ঈদ উদযাপন হচ্ছে।
ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা বৃদ্ধ মো. ইয়াসিন বলেন, ‘ইতোপূর্বে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আমার বাবা-চাচারা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এখন আমরাও একসঙ্গে রোজা ও ঈদ উদযাপন করি। আমাদের কাছে এটাই সঠিক নিয়ম মনে হয়।’
সময়ের আলো/কেএইচও