সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পৌর সদর এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে ‘গোশত সমিতি’ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজারে মাংসের দাম বৃদ্ধির আর ভালো মাংস কেনার টার্গেট নিয়ে গ্রামের শ্রেণি পেশার মানুষ গোশত সমিতি করে টাকা জমান। বছর শেষে নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে গরু বা মহিষ কিনে মাংস ভাগ করে নিচ্ছেন। এতে বাজারে কসাইদের হাঁকানো দরের চেয়ে কেজিতে অন্তত ১০০ থেকে দেড়শ টাকা কম দামে তারা মাংস পাচ্ছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তাড়াশ পৌর সদর এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে গোশত সমিতির সদস্যরা গরু জবাই করে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গরু-মহিষের মাংস আসায় ঈদের আনন্দের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এতে বিপাকে পড়েছেন পেশাদার মাংস বিক্রেতারা। তারা জানিয়েছেন, ঈদের মৌসুমে তাদের ব্যবসা আগের চেয়ে অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।
গোশত সমিতি’র সঙ্গে যুক্ত তাড়াশ পৌর এলাকার রওশন ফকিরসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বা মহল্লায় ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এ ধরনের সমিতি করা হয়। সমিতির মেয়াদ এক বছর। সমিতির অন্তর্ভুক্ত প্রতিজন সদস্য মাসে মাসে সমিতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে ঈদের আগে জমাকৃত অর্থ একত্র করে পশু কেনা হয়। ঈদের দিন বা তার দু-একদিন আগে এই পশু জবাই করে গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে ভাগ করে দেওয়া হয়।
প্রতিটি গোশত সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্থানীয়দের ভাষায় এই সমিতির নাম গোশত বা মাংস সমিতি। অনেকের কাছে ‘গরু সমিতি’ নামেও পরিচিত। গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্য সপ্তাহে ১০০ টাকা চাঁদা জমা দেন। জমা করা টাকায় গরু কিনে শবে কদরের দিন থেকে শুরু হয় পশু জবাইয়ের কাজ। চলে ঈদের দিন পর্যন্ত। ঈদুল ফিতরের দুই বা এক দিন আগে জবাই করে সদস্যরা গোশত ভাগ করে নেন। এরপর পরের বছরের জন্য তহবিল গঠন করে সমিতির কার্যক্রম চলতি থাকে।
গোশত সমিতির সঙ্গে জড়িত সাইফুল ইসলাম জানান, সমিতির মাধ্যমে গরু কিনে মাংস ভাগ করায় কম দামে ফ্রেশ মাংস পাওয়ায় গ্রামের লোকজন ব্যাপক উৎসাহিত হয়। এ বছর তাদের সমিতিতে ৪০ জন সদস্য হওয়ার পর আরও অনেকের আসার ইচ্ছা থাকলেও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, তাদের সমিতিতে সেক্রেটারি ও ক্যাশিয়ার রয়েছেন। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লার মহিলারা সমিতিগুলোতে জড়িত বেশি। প্রত্যেক সদস্য তার জমা টাকার হিসাব মিলিয়ে নেওয়ার জন্য জন্য রেজিস্ট্রার খাতাও করা হয়।
সময়ের আলো/জোই