ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঢল, বন্দুকের গুলি ছুড়ে জামাত শুরু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।শনিবার

2026-03-21T14:00:50+00:00
2026-03-21T14:02:42+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঢল, বন্দুকের গুলি ছুড়ে জামাত শুরু
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ২:০০ পিএম  আপডেট: ২১.০৩.২০২৬ ২:০২ পিএম
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের ১৯৯ জামাত অনুষ্ঠিত। ছবি : সময়ের আলো
এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয়। 

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ -১ আসনের এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ বিশিষ্ট জনেরা এই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার ছাড়াও মোতায়েন করা হয় ৫ প্লাটুন বিজিবি। ৬৪টি সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটসহ নিরাপত্তায় ব্যবহার কর হয় আধুনিক প্রযুক্তি।

দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ছিলো দুটি বিশেষ ট্রেন। ভৈরব থেকে সকাল ৬টায়, ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে দুটি স্পেশাল ট্রেন শোলাকিয়ার উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ফিরতি যাত্রা করে ট্রেন দুটি। 

সকাল ১০টায় ঈদের জামাত শুরু হলেও ভোর থেকে দলে দলে লোকজন শোলাকিয়া ঈদগাহে আসতে থাকেন। ৯টার মধ্যে বিশাল ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। তখনও শোলাকিয়ার পথে মানুষের টল।

শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর ১০ মিনিট, ৫ মিনিট ও সবশেষে ২ মিনিট আগে বন্দুকের গুলি ছোড়ে নামাজ শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঘোষণা করা হয়।


কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের চারটি নিরাপত্তা চৌকি পার হতে হয়। প্রতিটি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশির পর আর্চ ওয়ের ভেতর দিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে। ৬৪টি ক্যামেরা, ৭টি ড্রোন ও ৭টি লাইভ ক্যামেরায় মনিটর করা হয় মাঠের ভেতর ও চারপাশ। ঈদগাহের চারপাশে ৪টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়। প্রস্তুত ছিলো র‌্যাবের স্নাইপার ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

১ হাজার ১০০ পুলিশ, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৬টি র‍্যাব টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি ও আনসার মোতায়েন ছিলো। 

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ জামাত শেষ হয়। ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি এবার ঈদের নামাজ আদায় করেন। 

নামাজে অংশ নিয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি জানান, দীর্ঘদিন শোলাকিয়া ঈদগাহের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এবার ঐতিহাসিক এই মাঠের উন্নয়ন একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে।

আগামী বছরের মধ্যে ঈদগাহের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে বলে জানান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের অবস্থান। প্রতিবছর ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে এই ময়দানে। আড়াইশো বছরের প্রাচীন শোলাকিয়া ঈদগাহের আয়তন প্রায় ৬ একর।  ১৮২৮ সালে এই মাঠে এক লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া'। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত। 

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় এবার শোলাকিয়া মাঠের উন্নয়ন করা হবে বলে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম।

সময়ের আলো/জোই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: