জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের বিশেষকরে অকটেন ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের পর গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন

2026-03-24T20:06:55+00:00
2026-03-24T20:07:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম  আপডেট: ২৪.০৩.২০২৬ ৮:০৭ পিএম
মোটরসাইকেল চালকরা তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে আছেন। ছবি : সময়ের আলো
সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের বিশেষকরে অকটেন ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের পর গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পাওয়ায় মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর‌ন্ত শহরের বিভিন্ন তেল পাম্পে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা রাতের আঁধারে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বাইরে বিক্রি করছেন। ড্রামে ভরে ভ্যানে করে এসব তেল পাচার করা হচ্ছে। আবার এও অভিযোগ উঠেছে মোটরসাইকেল চালকরা বাড়িতে অকটেন পেট্রোল মজুত করে পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন। ফলে জ্বালানি তেলের সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, জেলার কোনো পাম্পে তেল পাওয়া না গেলেও বাইরের দোকানে অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে। এসব তেল গোপনে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০/২৫০ এবং অকটেন ৩০০/৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ ক্রেতারা পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকে চড়া দাম দিয়ে বাইরের দোকান থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক গ্রাহকদেরকে সামান্য তেল দিয়ে বাকিটা মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা যায়। পরে গভীর রাতে ওই তেল ড্রামে ভরে ভ্যান করে পাচার করা হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশি দামে কিনছেন খুচরা দোকানিরা। পরে ওই তেল এক লিটারের বোতলে ভরে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। যা সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল নিয়ে শত শত মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ সুযোগে শহরের বিভিন্ন খোলা বাজারে বাড়তি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না পেলেও খুচরা দোকানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক স্থানে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার জানান, সকালে শহরে এসেছিলাম মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য। এসে দেখি পাম্পে কোনো তেল নেই। শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। মোটরসাইকেলে যে তেল আছে তাতে আমি বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো না। এখন মোটরসাইকেল শহরে রেখে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই।

এবি খান পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, দুই/তিনদিন ধরে তেল নিতে আসি। কিন্ত কোনো তেল পাই না। বাধ্য হয়ে রোববার শহরের কুখরালী এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে ২০০ টাকা দিয়ে এক লিটার তেল কিনেছিলাম, যা প্রায় শেষের পথে। আজ তেল না পেলে মোটরসাইকেল ঘরে উঠিয়ে রাখতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরের কোনো পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে ও এর আশে পাশের বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকানে গোপনে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। পাম্প বন্ধ থাকায় গাড়িতে তেল ভরতে অনেকেই চড়া দামে বাইরে থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি কালো বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান।

শহরের এবি খান পেট্রোল পাম্পের মালিক বাবু খান গোপনে রাতে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পাম্পের কোনো লোক এ ধরনের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। যতক্ষণ তেল থাকে আমি বিক্রি করি।

আলীপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক আবু সাইদ বলেন, এখানে ডিজেলের কোনো সংকট নেই। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল নিয়ে কোনো সংকট হয়নি। সে সময় যে পরিমাণ তেল নিয়ে সারা মাস ধরে বিক্রি করেছি সেই পরিমাণ তেল এখনও সরবরাহ আছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর পরেই জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা যে পরিমাণ তেল ডিপো থেকে পাচ্ছি তা পাম্পে নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যে তেল একমাসে বিক্রি হত সেই পরিমাণ তেল একবেলাই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এত তেল যাচ্ছে কোথায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে পটে ঢেলে মজুত করে আবার পাম্পে আসে তেল নিতে। এতেই তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে।

এদিকে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শহরের লস্কর ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না, অথচ বাইরের দোকানে চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সাতক্ষীরায় তেল সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে যে কোনো ধরনের অনিয়ম দূর করতে আমাদের ভিজিলেন্স টিম সব সময় মাঠে কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানে কালো বাজারে বিক্রি বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   সাতক্ষীরা  জ্বালানি তেল  তীব্র সংকট  পাম্প  মোটরসাইকেল  দীর্ঘ লাইন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: