ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই নগরীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প জ্বালানি শূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি পাম্প খোলা আছে, সেগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এদিন দুপুরে নগরীর গণি বেকারি মোড়ের কিউসি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।
চালকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ কেউ তেল মজুদ করছেন। তবে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প আছে ৩৮৩টি। আর এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন। প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পেট্রোল পাম্প আছে ৪৬টি। যার অধিকাংশই বন্ধ।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক সভাপতি এহসানুর রহমান চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল মিলছে না। এজন্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তেলের অভাবে আমরা গ্রাহকদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি।
কোথাও তেল মজুদ করা হচ্ছে কিনা?-এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মজুদ করার তো কোনো সুযোগ নেই। ১০ থেকে ২০ হাজার লিটার তেল আমরা কোথায় রাখব? পাম্পে সিসি ক্যামেরা আছে। তেল ট্যাংকে ভর্তি করে পরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিনা তা ক্যামেরা যাচাই করলেই বোঝা যাবে।
অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, তেলের ঘাটতি আছে। তবে মানুষ মানুষ আতঙ্কিত হয়েও বেশি তেল নিচ্ছে। এতেই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পে অর্ডার সংক্রান্ত জটিলতায় নগরীতে বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু ব্যাংক খুলেছে, তাই আশা করি, সমস্যা থাকবে না।
এফআর