উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার একটি শান্ত গ্রাম হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেছে এক অস্বস্তিকর ঘটনায়। সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের বাবার কবর ভাঙচুর করেছেন এক ছেলে— এমন অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আনালের তাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া শালু (৫০) একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত আব্দুল মান্নান মিয়া জীবদ্দশায় তার প্রায় চার বিঘা জমি পাঁচ ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেন। কিন্তু সেই বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে, দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়ার নামে তুলনামূলক বেশি জমি দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ ছিলেন ছোট ছেলে শাহ আলম।
গ্রামবাসীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে শাহ আলম মিয়া হঠাৎ বাবার কবরের ওপর উঠে সেটির চারপাশের বেড়া ভাঙচুর শুরু করেন। কবরটি ইকবাল মিয়ার জমির ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেটি নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। শাহ আলম দাবি করেন, ওই জায়গাটি তার প্রাপ্য অংশের মধ্যে পড়ে।
এদিকে, এমন ঘটনার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে কবরের কাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপস্থিত অনেকেই ঘটনাটিকে ‘অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহ আলম মিয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হওয়ায় এলাকায় এক ধরনের প্রভাব খাটান। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি-ধমকি দেন বলেও দাবি করেন তারা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পান।
গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, এটা শুধু একটি পরিবারের বিষয় না, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার। একজন সন্তান কীভাবে নিজের বাবার কবর ভাঙতে পারে? আমরা এর কঠোর শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন আচরণকে গুরুতর অবমাননা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে কিন্তু তা কখনোই মৃত ব্যক্তির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের পর্যায়ে যেতে পারে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর না ঘটে।
গ্রামের প্রবীণ এক ব্যক্তি বলেন, জমি নিয়ে ঝগড়া নতুন কিছু না, কিন্তু কবর ভাঙা— এটা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থি। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।
এফআর