২৫ মার্চ, ১৯৭১; ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫; ৩০ মে, ১৯৮১

শায়রুল কবির খান

মতামত

১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন হবে কিন্তু হলো না। যা হয়েছিল তা কল্পনার অতীত। ভোটের অধিকারকে

2026-03-26T04:07:04+00:00
2026-03-26T04:07:04+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
২৫ মার্চ, ১৯৭১; ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫; ৩০ মে, ১৯৮১
শায়রুল কবির খান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন হবে কিন্তু হলো না। যা হয়েছিল তা কল্পনার অতীত। ভোটের অধিকারকে দমন করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তার স্বাধীন দেশের পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিকদের ওপর রাতের অন্ধকারে নির্মম গণহত্যা শুরু করে।

১৯৭১ সাল ২৫ মার্চ সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকালের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদর দফতর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানার সদর দফতর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নীলক্ষেত, দৈনিক ইত্তেফাকসহ প্রায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আক্রমণ করে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়, যা পরিণত হয় গণহত্যায়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থে তার বিশদভাবে বিবরণ পাওয়া যায়।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান।

মধ্যরাতে সেনা অভিযানের শুরুর আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় তখনকার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ তাজউদ্দীন আহমদ, ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন যান স্বাধীনতার ঘোষণা-সংক্রান্ত কোনো লিখিত বক্তব্য কিংবা অডিও বক্তব্য তৈরি করে নিতে, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি, তিনি তা দেননি।

১ থেকে ২৫ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশে স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত দিকে ধাবিত হতে থাকে। বিশেষ করে ১ মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণায় ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শহরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
২ মার্চ রঙিন ‘স্বাধীনতা পতাকা’ উত্তোলন করেন পল্টন ময়দান থেকে ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব। ৩ মার্চ স্বাধীনতা ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ।

৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দেবেন। চারদিকে প্রচার হতে থাকল তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন।

লাখো জনতা তার ভাষণ শুনতে ছুটে আসেন সমাবেশস্থলে। জনতা নেতার ভাষণ থেকে ৪টি শর্তের কথা স্পষ্টভাবে শুনেছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে পাননি উৎসুক জনতা। এমনকি ওই ভাষণ পরদিন পাকিস্তান বেতারে সম্পূর্ণ প্রচার করা হয়।

১৪ মার্চ জুলফিকার আলি ভুট্টো ঢাকায় আসেন। ১৫ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আসেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান, পিপলস পার্টি প্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টোসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বৈঠক শুরু করেন।

২৪ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিক বৈঠক চলে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এই বৈঠকের আড়ালে তারা তাদের লক্ষ্যস্থির রেখে অপারেশন সার্চলাইট চূড়ান্ত করে।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সব আওয়ামী লীগ নেতা পলায়নপর। সাধারণ মানুষ দিশাহারা। শহরে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে। এ রকম পরিস্থিতিতে নিজ কর্তব্যবোধ থেকে শির উঁচু করে মেরুদণ্ড সোজা রেখে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে জীবন ও পরিবার উৎসর্গ করে প্রথমে ‘উই রিভল্ট’, এরপর চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান ‘স্বাধীনতা’ ঘোষণা করেন। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি বাংলাদেশ স্বাধীনতা’ ঘোষণা করছি। মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সামরিক কর্মকর্তা জানজুয়ারসহ তার নিয়ন্ত্রণে সবাইকে গ্রেফতার করেন।

মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ব্রিগেড কমান্ডার ‘জেড ফোর্স’ এবং ১ ও ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। রংপুর অঞ্চলে প্রথম ৫০০ বর্গমাইল স্বাধীন ভূখণ্ড ঘোষণা ও বেসরকারি প্রশাসনিক কাঠামো শুরু করেন জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’।

১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তান কারাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পেয়ে ব্রিটেন ও ভারত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সাল। ১১ জানুয়ারি বাদ দিয়ে ১২ জানুয়ারি প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে বাদ দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হন।

এরপরের ইতিহাস অনেকেই জানেন। দ্রুতই নাগরিকদের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ক্রমাগত দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে থাকে। দুর্নীতি, লুটপাট, হত্যা, হামলা-মামলা, গ্রেফতার, ভোট কারচুপি, চারদিকে সীমাহীন অরাজকতা চলতে থাকে।
১৯৭৪ দুর্ভিক্ষে ভয়াবহ অবস্থা। একদলীয় শাসন বাকশাল শুরু। মানুষ দিশাহারা। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ পটপরিবর্তন।

৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি পূর্বে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ পটপরিবর্তন কিছুটা আলোকপাত দরকার। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রনৈতিক অবস্থানে বিশাল পরিবর্তন আসে। বছরটি ছিল ১৯৭৫ সাল। এই বছরের ১৫ আগস্টের এক সেনা অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।

১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনে বাংলাদেশের রেডিও থেকে মেজর ডালিম ঘোষণা করেছিলেন, খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে এবং রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের ফলে দেশের রাজনীতির মোড় পরিবর্তন ঘটেছে।

এই উপ-ভারতবর্ষে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে বান ডাকে। যখন নদীর বান ডাকা স্তিমিত হয়ে আসে, তখন নদীর এক পাড় ভাঙে অন্য পাড়ে পলি জমা হয়ে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই হয়তো ভাবুক কবিগান রচনা করেছিলেন, নদীর একূল ভাঙে, ওকূল গড়ে/ এই তো নদীর খেলা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের রাজনীতিও নদীর মতোই। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পটপরিবর্তন ঘটে, তা কি নিছক নদীভাঙনের সঙ্গে তুলনীয়? এ পরিবর্তনটি ঐতিহাসিকভাবে উপমায় অনেকটাই ব্রহ্মপুত্র নদের খাত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনীয়।

১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে যমুনা নামে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ব্রহ্মপুত্র নদের পুরোনো খাতটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতো। ব্রহ্মপুত্রের খাত পরিবর্তনের ফলে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের অংশটি মৃত্যুবরণ করে। এতে পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় চলে যায় এবং নদীটির নামকরণ করা হয় পুরোনো ব্রহ্মপুত্র। নিঃসন্দেহে ব্রহ্মপুত্র নদের খাত পরিবর্তন শক্তিশালী ভূমিকম্প না হলে হতো না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের মতোই বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের ফলে ‘এক নেতা এক দেশ’ স্লোগানের মৃত্যু ঘটে। প্রায় তিন মাসের মাথায় ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সামরিক ক্যুর ঘূর্ণাবর্তে পড়ে যায়। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ তার অনুগতদের নিয়ে ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটায়। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়।

ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ নিজে নিজেই মেজর জেনারেলে উন্নীত হন এবং সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে নৌবাহিনী প্রধান এমএইচ খান ও বিমানবাহিনী প্রধান এমজি তাওয়াব মেজর জেনারেলের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
প্রায় একই সময়ে বঙ্গভবনে বসে খালেদ মোশাররফ প্রয়াত সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ খানের কাছ থেকে টেলিফোনে জানতে পারেন, তার মা ও ভাই আওয়ামী লীগের মিছিলে যোগ দিয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে বলতে থাকেন, আমার মা ও ভাই আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে। সেই সময় জনগণের দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ ছিল দেশদ্রোহীর দল।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এএসএম সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বেতার ও টেলিভিশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি সায়েম। তিনি দেশবাসীকে জানান, সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতেও খালেদ মোশাররফের শেষ রক্ষা হয়নি। ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে ক্যান্টনমেন্টে জওয়ানরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তারা দলে দলে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে। রাজপথে ট্যাঙ্ক ও কামান সজ্জিত হয়ে বিদ্রোহী সিপাহিরা বিপ্লবের স্লোগান দিতে থাকে। তারা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ- জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ- বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

রাজপথে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে সিপাহি বিপ্লবের সমর্থনে সংহতি প্রকাশ করে। এ অভ্যুত্থানকে চিহ্নিত করা হলো সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতিরূপে।

জিয়াউর রহমানকে খালেদ মোশাররফের বন্দিশালা থেকে সৈনিকরা মুক্ত করে আনল। সূচিত হলো বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়। জিয়াউর রহমান বন্দি হয়েছেন জেনে সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। অনেকে দারুণ উৎকণ্ঠার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। আসলে উৎকণ্ঠায় ভোগার ফলে সাধারণ মানুষ খাবার গিলতে পারছিল না। সর্বোপরি ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কোনো রকমের সরকার আছে কি না তা নিয়ে দারুণ উৎকণ্ঠায় পড়ে গেল সাধারণ মানুষ। এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। দেশকে তারা কত ভালোবাসেন।

সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে জাতির উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। তিনি জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানালেন। সেনাবাহিনী আপনাদের পাশে আছে। আপনারা নিজ নিজ কাজে যোগদান করুন, আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জিয়াউর রহমান সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে সিপাহিদের ধ্বংসাত্মক পথ থেকে নিরস্ত্র করতে সক্ষম হলেন। সেনাবাহিনীতে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে এলো। জিয়াউর রহমান যদি সেনাবাহিনীতে নিয়ম-শৃঙ্খলা উদ্ধারে সফল না হতেন, তা হলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার শঙ্কা থেকে যেত।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এদিন বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র শপথ গ্রহণ করে। জিয়াউর রহমানের মতো একজন ব্যক্তির নেতৃত্বের ফলে স্বল্পসময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বিশ্বদরবারে জাতি রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উৎপাদনের জোয়ার সৃষ্টি হয়। জিয়াউর রহমান দেশের নারী-পুরুষ, কিশোর-যুবক, শিশু ও প্রৌঢ়সহ সব মানুষকে নিয়ে জাতি গঠনের মহান ব্রত গ্রহণ করেছিলেন। তলাবিহীন ঝুড়ি রাষ্ট্রের বদনাম গুছিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ নির্মাণ করেন। তার নিখুঁত দেশপ্রেম ও জাতি গঠনে সঠিক কর্মপন্থা গ্রহণের জন্য জিয়াউর রহমান যুগ-যুগান্তরে মানুষের হৃদয়ের গভীরে ঠাঁই নিয়ে আছেন ও থাকবেন।

জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রয়াস আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র গোষ্ঠী মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না, ফলে তাদের চক্রান্তের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক দল বিপথগামী সামরিক অফিসারের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহিদ হন। থমকে দাঁড়ায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়।

এই গৌরবোজ্জ্বল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক দল ও শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। যার প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম।

মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাক্সক্ষার ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, এই পরিবর্তনকে ‘উন্নত ও কল্যাণ বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে তার রক্তের এবং রাজনৈতিক আদর্শিক উত্তরসূরি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা কোটি কোটি জনতা ঐক্যবদ্ধ। আর বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফাই হলো তার কেন্দ্রবিন্দু।

উপদেষ্টা সম্পাদক
দৈনিক সময়ের আলো

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ২৫ মার্চ  ১৯৭১  ৭ নভেম্বর  ১৯৭৫  ৩০ মে  ১৯৮১ 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: