যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। জানিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসি। প্রমাণ

2026-03-26T10:36:28+00:00
2026-03-26T10:36:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম  আপডেট: ২৬.০৩.২০২৬ ১০:৩৬ এএম
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। জানিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসি। প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানকে বাস্তবতা মেনে পরাজয় স্বীকার করে চুক্তিতে যেতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নয়তো দেশটিতে আরও ভয়াবহ আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তেহরান বলছে, বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধে সম্মত হতে হবে।

এদিকে সংলাপের কথা বললেও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে আইআরজিসি।

ইসরাইলের সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের দাবি, ডিমোনা ও হাইফায় চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহও। তাদের রকেট মেতুলা, দাফনা ও নাহারিয়া এলাকায় আঘাত হেনেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানি ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দরের আশেপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।


এর মধ্যেই চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হামলার স্থান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়। এরপর বিমানটি অস্থির হয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ার মতো কিছু বের হতে দেখা যায়।

এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের আনুষ্ঠানিক নাম এফ/এ-১৮ হর্নেট বা সুপার হর্নেট। এটি বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়নে সক্ষম বহুমুখী যুদ্ধবিমান যা মার্কিন নৌবাহিনী এবং মেরিন কোর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে এবং প্রায়শই আরব সাগর ও বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ থেকে পরিচালিত হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ইরানের দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি। 

এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। এসব দাবিও স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। 

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের শত্রুরা দেশটির একটি দ্বীপ দখলের গভীর ষড়যন্ত্র করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রু পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

জবাবে ইসরাইলি বিমানবাহিনী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের বেশ কিছু অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে কয়েক দফা বোমা বর্ষণের দাবি করেছে তেল আবিব।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং সক্ষমতা লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে আগ্রাসন বহুগুণ বাড়িয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে।


এদিকে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান পরাজয় স্বীকার না করলে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

লেভিট বলেন, ইরান যদি বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, যদি বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং আগামীতেও হতে থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের ওপর আগের চেয়েও আরও ভয়াবহ আঘাত হানা হয়। ট্রাম্প কোনো ফাঁকা বুলি দেন না। ইরানের উচিত হবে না পুনরায় কোনো ভুল হিসাব করা।

তবে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা পাঠাচ্ছে, তবে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার গ্রহণ এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানিয়েছেন আরাঘচি।

যুদ্ধের কারণে থমকে গেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও প্রধান জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় জাহাজে আটকে থাকায় নাবিকদের মধ্যে মানসিক অবসাদ ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  এফ-১৮ যুদ্ধবিমান  ধ্বংস  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: