ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এক চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাপ এবং তীব্র জনবল সংকটের মুখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘নিজের ভেতরেই ধসে পড়ার’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৩ নিউজ’-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে জেনারেল জামির ১০টি বড় সতর্ক সংকেত উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আইডিএফের জন্য একটি নিয়োগ আইন, একটি রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন প্রয়োজন। নাহলে খুব শিগগিরই আইডিএফ নিয়মিত দায়িত্ব পালনের মতো অবস্থায়ও থাকবে না। রিজার্ভ ব্যবস্থা টিকে থাকবে না।
সৈন্য সংকট নিয়ে জেনারেল জামির গত কয়েক মাস ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, সৈন্যের ঘাটতি সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বর্তমানে আইডিএফ-এ প্রায় ১২ হাজার সৈন্যের তাৎক্ষণিক অভাব রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো এমন একটি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের সমর্থকদের সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
তবে ২০২৪ সালের জুনে উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির কোনও আইনগত ভিত্তি নেই।
বর্তমানে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রায় ৮০ হাজার অতিরক্ষণশীল ইহুদি যুবক সামরিক সেবার জন্য উপযুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা এখনও সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে খোদ সেনাপ্রধানের মুখে ‘বাহিনী ধসে পড়ার’ এমন শঙ্কা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এফআর