প্রতি বছর রমজান শেষে আসে খুশির ঈদ। এই ঈদের জন্য মাসব্যাপী প্রস্তুতি চলে। এই প্রস্তুতি যেমন ঈদের কেনাকাটা। আবার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য প্রস্তুতি চলে। এই প্রস্তুতি অবশ্য রমজানের মাঝামাঝি থেকেই শুরু হয়। যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বাস টার্মিনালে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ।
এ ছাড়া রেলপথে আগাম টিকেট দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার যাত্রাপথে সংশ্লিষ্টরা কতটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে সে প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে।
এবার নৌযাত্রা পথে লঞ্চের কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু ছিল বিশৃঙ্খলা। যে কারণে এই নৌপথে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলা এড়ানোর দায়িত্ব যাদের ছিল তারা কি তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন?
ধারণক্ষমতা যেখানে সীমাবদ্ধ সেখানে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় অধিক পরিমাণ যাত্রী উঠানো হয়েছে। এমনকি লঞ্চঘাট ছেড়ে চলে গেলেও মাঝপথে যাত্রী উঠানো হয়েছে; এমন দৃশ্য বিভিন্ন মিডিয়াতে ধরা পড়েছে।
যাত্রীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য আকুল হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাত্রীদের জন্য সচেতন করার জন্য কি কোনো উপায় ছিল না? লঞ্চের ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু সেই সমালোচনা যেন কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায় না।
গত বুধবার পদ্মাপাড়ে এক হৃদয়স্পর্শী দুর্ঘটনা ঘটল। কত প্রাণ অকালে ঝরে গেল। এর জন্য দায়ী কে? শুধু কি একজন বাসচালক নাকি বাসের মালিক। চালকের ভুলের কারণে যদি এত প্রাণ নিমিষে নিভে যেতে পারে তা হলে বাস মালিক কি এই দায়দায়িত্ব নেবে না? অনেক বাসচালক এখন হেলপার দিয়ে তার বাস চালায়, সে কথা এখন সবার কমবেশি অজানা নয়।
দূরের পথ হোক কিংবা কাছের পথ হোক, কেন আনাড়ি ড্রাইভার বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসবে। প্রতিনিয়ত বাস দুর্ঘটনায় অগণিত প্রাণ হারাচ্ছে। যাদের আত্মীয়স্বজন প্রাণ হারায় শুধু তারাই ভালোভাবে উপলদ্ধি করতে পারেন স্বজন হারানোর মর্মবেদনা। ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় শুধু এসব আনাড়ি চালকের জন্য। এসব আনাড়ি বাসচালকের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে বাস মালিকদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাস মালিকদের জন্য একটি নিয়ম-কানুন তৈরি করা সময়ের দাবি হয়ে গেছে।
সরকারের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যারা পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সরকারের কোনো সংসদ সদস্য বাস মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এই বৈঠকের ফলাফল কী হলো?
টিকেট কাউন্টারে গিয়ে অনেক যাত্রীকে চড়া দামে টিকেট কিনতে হয়েছে। এর দায়ভার কে নেবে? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্ন রুটে যাত্রাপথে সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এই সিন্ডিকেটের খবর সরকারের অনেকের কাছে রয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
আর কত প্রাণ ঝরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?
এফআর