মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম গড়ে অনেক বেড়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে আরটিএক্স, যাদের শেয়ারের দর গত কয়েক বছরে প্রায় ১১০ শতাংশ বেড়েছে।
এর পরেই রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান, যাদের প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশ।
এছাড়া জেনারেল ডায়নামিক্সের শেয়ার ৫৭ শতাংশ এবং বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিনের শেয়ার ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। বোয়িংয়ের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হলেও তা ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিগুলোর বার্ষিক আয়ের দিকেও এই মুনাফার চিত্র স্পষ্ট।
লকহিড মার্টিন ২০২৪ সালে প্রায় ৬৮.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার বড় অংশ এসেছে মার্কিন সরকারের প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে। একইভাবে আরটিএক্স তাদের মোট আয়ের ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা খাত থেকে পেয়েছে।
নর্থরপ গ্রুম্যান ৩৭.৯ বিলিয়ন ডলার, জেনারেল ডায়নামিক্স ৩৩.৬ বিলিয়ন ডলার এবং বোয়িং ৩০.৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এই খাত থেকে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে এসব বড় কোম্পানি উৎপাদন চারগুণ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এতে তাদের মুনাফা আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
দেশটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমস বর্তমানে অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাদের শেয়ারের দর প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ও তার মিত্রদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রাফায়েল তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় অঙ্কের অর্ডার ও সরকারি অর্থায়ন পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক কোম্পানির বর্তমান অর্ডারের পরিমাণ বিশ্বের অনেক ছোট দেশের মোট জিডিপিকেও ছাড়িয়ে গেছে।