দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবার নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—নিজেদের শিক্ষার্থীর একাডেমিক তথ্য (ডিগ্রি ভেরিফিকেশন) দিতে গিয়েও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিষয়টি সামনে এনেছেন এস্তোনিয়ান এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্ট ড. আমিনুল ইসলাম।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির কাছে এক শিক্ষার্থীর ডিগ্রি যাচাইয়ের জন্য অর্থ চেয়েছে ঢাবি। পরে ওই সুইডিশ ভর্তি কমিটি শিক্ষার্থীকে ই-মেইলে জানায়, ডিগ্রি ভেরিফিকেশনের জন্য তারা কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করে না। পোস্টে প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ড. আমিনুল ইসলাম। তার ভাষায়, চিন্তা করে দেখেন অবস্থা! একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের ‘সেরা’ হিসেবে পরিচিত, সেটি যদি নিজের শিক্ষার্থীর তথ্য দিতে গিয়েও অর্থ দাবি করে, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় তিনি বহুবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। প্রতিবারই শুধু ই-মেইলে তিনি জানালেই একাডেমিক তথ্য বিনামূল্যে পাঠিয়েছে তারা। এমনকি বর্তমানে তিনি যেখানে শিক্ষকতা করছেন, এস্তোনিয়ার একটি ছোট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—সেখানেও শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের ক্রেডেনশিয়াল পেয়ে থাকে, কোনো অর্থ ছাড়াই।
এমনকি পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার দিকও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৭ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে জানান, সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কাজ করার জন্য ই-মেইল পাঠালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার জবাবই দেয়নি। পরবর্তীতে তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, এমন আচরণ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়—এটি পুরো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি মনে করে বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাই এমন, তাহলে তারা পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিই অনাস্থা দেখাতে পারে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, দেশে একটি ‘সেরাকেন্দ্রিক’ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে। তার মতে, এই আধিপত্যই দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাওয়ার পথে বড় বাধা।
তিনি বলেন, দেশের অনেক ছোট পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হলেও কেবল বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে তাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘প্রাতিষ্ঠানিক সাম্রাজ্যবাদ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমিনুল ইসলামকে ফেসবুকে মেসেজ দিলে সিন করেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
/ইউএমএইচ