লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার প্রাণস্পন্দন হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘ভুলুয়া’ নদী এখন মৃতপ্রায়। পলি জমে ভরাট হওয়া, অবৈধ দখল আর দূষণে নদীটি এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই উপকূলীয় জনপদ রামগতি ও কমলনগরের হাজার হাজার মানুষের চোখেমুখে এখন আতঙ্কের ছাপ। স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে নদীটি জরুরি ভিত্তিতে খনন করা না হলে এবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখে পড়বে এই অঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রাম।
সরেজমিন দেখা যায়, ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর বুকজুড়ে এখন জেগেছে বিশাল চর। কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা অবৈধ বাঁধ দিয়ে ও ঘরবাড়ি তুলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা। এতে শুধু জনদুর্ভোগ নয়, ব্যাহত হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো চাষাবাদ। যদিও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে মাঝেমধ্যে আংশিক খননকাজ শুরু হয়, তবে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নদীতে জোয়ার-ভাটা থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুর জেলায় পানি নিষ্কাশন ধীর হওয়ার পেছনে সচেতন মহল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- খালের ওপর অপরিকল্পিত স্থাপনা ও বাঁধ নির্মাণ। বাজারসংলগ্ন খালগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে স্তূপ। কচুরিপানা ও লতাপাতা পরিষ্কার না করায় পানির প্রবাহ থমকে যাওয়া। দীর্ঘকাল খনন না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া। জালের প্রতিবন্ধকতা ও বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা দিয়ে প্রবাহ রোধ করা। কমলনগর উপজেলার চর কাদিরার বাসিন্দা আবু কালাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘নদী খনন করতে হলে আগে দখলমুক্ত করতে হবে। এবার যদি খনন না হয়, তবে আমাদের আবারও পানির নিচে ডুবতে হবে।’ অন্যদিকে রামগতি উপজেলার পোড়াগাছা ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম বলেন, সবাই বলে খনন করবে, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। আমরা যেন অবহেলার পাত্র হয়ে আছি।
আরও পড়ুন
এই বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান জানান, প্রয়োজনীয় ফাইল প্রসেসিং করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান জানান, আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রাক্কলন পাঠিয়েছি। বাজেট বরাদ্দ হলেই পুরোদমে খনন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এএডি/