ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন।
এ লক্ষ্যে সরাসরি সৌদি সফর করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে ইতোমধ্যে ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে ইউক্রেন।
এসব ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ২০০ এর বেশি বিশেষজ্ঞও পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, পরমাণু ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
ওই হামলায় তেহরানে একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন।
এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে ইউক্রেন।
দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজ করছে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ এক বার্তায় জানান, এসব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া ইসরাইলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ইউক্রেন, যা নিয়ে তেহরান কিয়েভকে সতর্ক করেছে।
আরব নিউজ ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি সফরে গিয়ে জেলেনস্কি দেশটির যুবরাজ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে তিনি বলেন, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ড্রোন প্রতিহত করতে সৌদিকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউক্রেন।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন এবং তারা দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ২০০ এর বেশি ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যারা ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসে পারদর্শী।
এএফপির বরাতে জানা গেছে, বৈঠকের পর জেলেনস্কি ও সৌদি যুবরাজ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলেনস্কি।
তবে চুক্তির বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তি শুধু ড্রোন প্রতিহত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।