প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সচিবালয়। সরকারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে। ৪০টির বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সরকারের সিদ্ধান্ত একেবারে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত মনিটর করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছোট সিদ্ধান্তের জন্য সচিবালয়ে ছুটে আসতে হয়। যে কারণে সচিবালয় সবার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এতদিন সচিবালয়ের কাজ চলত শম্বুকগতিতে। ফাইল যেন সহজে নড়ে না। ফাইলের পেছনে ভুক্তভোগীদের দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। আবার সচিবালয়ে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্র্তা থেকে শুরু করে একেবারে নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হতো না। বিভিন্ন অজুহাতে দেরিতে অফিসে আসা যেন একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এখন সে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।
বিএনপি সরকারের বয়স বেশি দিন হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দৃষ্টান্ত রাখছেন, তা নজিরবিহীন। তিনি প্রতিদিন একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে সচিবালয়ে অফিস করছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রতিদিন সচিবালয়ে আসার কথা নয়। মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক কিংবা বিশেষ কোনো সভার জন্য সচিবালয়ে অফিস করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রশাসনের গতি ফিরিয়ে আনতে নিজেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন যা ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয়ে অফিস করেন তখন কোনো মন্ত্রণালয়ে সচিবকে কষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যেতে হয় না। এর ফলে একদিকে যেমন সময় বাঁচে, অন্যদিকে কাজে গতি ফেরে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল রোববার যথারীতি সচিবালয়ে আসেন। কিন্তু তিনি অন্যদিনের মতো নিজের কার্যালয়ে না গিয়ে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক পরির্দশন করেন। এতে অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা চমকে গেছেন।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো ধরনের লিফট ব্যবহার করেননি। সিঁড়ি ভেঙে হেঁটে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পরির্দশন করেন। এই দৃশ্য অতীতে আর দেখা যায়নি। স্বাভাবিক সুলভ আচরণে তিনি হঠাৎ একেক রুমে প্রবেশ করেছেন। নিজ চোখে দেখলেন সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন অনেকের জন্য চমক হতে পারে। কিন্তু পরির্দশনের মাধ্যমে তিনি যে বার্তা দিয়ে গেলেন তা হলো, নিয়মানুবর্তিতা, কাজের প্রতি একাগ্রতা বজায় রাখা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন একেবারে ঘড়ির কাঁটা ধরে সচিবালয়ে আসেন তখন সবার টনক নড়ে গেছে। অর্থাৎ সময়মতো সবাইকে অফিসে আসতে হবে। এর আগের সরকারের সময় অনেকের অফিসে কোনো হদিস পাওয়া যেত না। এমন কি, সময়মতো অফিসে আসার কোনো ধরনের আগাম সর্তক বার্তাও দেওয়া হতো না। বিগত সরকারের সরকারপ্রধান এর আগে সচিবালয়ে এসেছেন। কিন্তু তা ছিল এক দিনের জন্য। মাসে একবার কিংবা দুবার। এলেও তা ঘটা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হতো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে হেঁটে দোতালা, তিন তলায় উঠেছেন। কিন্তু বিগত দিনে দেখা গেছে সরকারপ্রধান সচিবালয়ে প্রবেশের আগে অনেক ভবনের লিফট সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতো। দুর্ভোগ পোহাতে হতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব বাঁধ যেন ভেঙে দিলেন। এই বাঁধ ভাঙা মানে দাঁড়াচ্ছে, প্রশাসনে গতি আনা। সাধারণ মানুষের সেবা করা। পাশাপাশি কাজে গতি আনা ও সময়মতো অফিসে আসা।
এফআর